ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে, অনাহারে মৃত শিশুসহ আরও ১৪
- আপডেট সময় : ০৬:১৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
- / 49
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতার কারণে একদিনে কমপক্ষে ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলের অবরোধের ফলে সৃষ্টি হওয়া অনাহারে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৪ জনের, যার মধ্যে দুজন শিশু রয়েছেন। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের যুদ্ধে গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৪৭ জনে পৌঁছেছে, যাদের মধ্যে ৮৮ জন শিশু। গত মার্চ মাস থেকে ইসরায়েল গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করেছে। যদিও মে মাসে আংশিক অবরোধ শিথিল করা হয়, তবুও ত্রাণ সরবরাহ এখনও সীমিত পরিসরে হচ্ছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা বারবার সতর্ক করে আসলেও প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছাতে পারেনি গাজাবাসী।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রধান ফিলিপ ল্যাজারিনি বলেন, গাজায় তার সহকর্মীরা এমন দৃশ্য দেখছেন, যেন মানুষরা ‘না বেঁচে আছে, না মরেছে, যেন হাঁটতে থাকা লাশ’। তিনি এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বলেন, শুধু ক্ষোভ বা নিন্দা পর্যাপ্ত নয়, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি আনতে হবে, দুর্ভিক্ষ রোধ করতে হবে এবং বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্কটল্যান্ড সফরে সাংবাদিকদের বলেন, গাজায় ‘প্রকৃত অর্থেই দুর্ভিক্ষ চলছে’ এবং এর জন্য ইসরায়েল বড় দায়ী। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই এবং তারা মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
গাজা সরকারের গণমাধ্যম অফিস জানায়, গত ১৫০ দিনে ইসরায়েল শিশুদের খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রাখায় ৪০ হাজারের বেশি শিশু ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে সামনে রেখে গাজা সরকার সব সীমান্ত ক্রসিং অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে খোলার দাবি জানিয়েছে।
বর্তমান এই সংকট মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিপুল জনহানির আশঙ্কা তৈরি করেছে বিশ্ববাসীর জন্য। দ্রুত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান করা হচ্ছে, যাতে গাজায় বাঁচার সুযোগ ফিরে আসে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।















