ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ
- আপডেট সময় : ১২:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 28
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ ক্ষমতার দাপটে দেশে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন নিয়েছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কুষ্টিয়া হাউজিং স্টেটের ৬ ও ৭ নম্বর প্লটের ঠিকানায় ‘লালন বিজ্ঞান ও কলা বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের অনুমতি দেয়। তবে বাস্তবে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি স্ত্রী ফৌজিয়া আলমের নামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইসেন্স নেন।
২০২৩ সালে অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে স্থবির হয়ে পড়ে। এ সময় কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং স্টেটের ওই ঠিকানাটি ছিল হানিফের ভাই, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার নির্মাণাধীন ভবন। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আতার সম্পদের বিরুদ্ধে মামলা ও অনুসন্ধান শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়। এছাড়া অনুমোদন নেওয়ার ক্ষেত্রে ভবনের ডিজাইন লঙ্ঘন এবং জেলা পরিষদের সম্পত্তি অবৈধভাবে ব্যবহার করার অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বর্তমানে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলা মাসিক তিন লাখ টাকায় হানিফকে ভাড়া দিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আলোচিত নেতা হানিফ ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। পালিয়ে যাওয়ার পরও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু রাখার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাস্টি বোর্ডে পরিবর্তন আনা হয়। তার স্ত্রী ফৌজিয়া আলমকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে হানিফের ঘনিষ্ঠজন এবং আগের ভাইস চেয়ারম্যান হেলথকেয়ার ফার্মার সিইও হালিমুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করা হয়। যদিও হানিফ ও তার স্ত্রী ট্রাস্টি বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করা হয়, সূত্রমতে তারা এখনো বোর্ডের প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ট্রাস্টি বোর্ড পরিবর্তন করা হয়। এরপর নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২৪ জন শিক্ষক এবং ৩৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ভর্তি কার্যক্রম চালু হয়েছে। পাঁচটি বিভাগে প্রতিটিতে ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন থাকলেও ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ১০১ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।
আধুনিক সাজে সাজানো এই বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলেও উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত এক শিক্ষককে উপাচার্য করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরইমধ্যে মঞ্জুরি কমিশনে তিনজনের একটি প্যানেল পাঠানো হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও জিয়া পরিষদের সভাপতি ফারুকুজ্জামান। অপর দুইজন হলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান ও শরিফুল ইসলাম।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান দাবি করেন, বর্তমানে হানিফ কিংবা অন্য কোনো আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রেক্ষাপট বদলানোর পর আগের পদধারীরা পদত্যাগ করেছেন, আর নতুন বোর্ড গঠন করে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ইউজিসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫০টিরও বেশি স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তবে মাত্র ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ীভাবে পরিচালনার সনদপত্র পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন প্রতিষ্ঠিত ‘লালন বিজ্ঞান ও কলা বিশ্ববিদ্যালয়’ নানা বিতর্কের মধ্য দিয়েও কার্যক্রম চালু করে আলোচনায় এসেছে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর অনলাইন














