শাহবাগে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
- আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
- / 43
রাজধানীর শাহবাগে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
হঠাৎ সংঘর্ষের ঘটনায় শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা কিছুটা পিছু হটলেও তাৎক্ষণিকভাবে আবার অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। এর আগে সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ডিপ্লোমা ও বিএসসি প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন এবং দুপুরে ‘লং মার্চ’ শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের দাবিগুলো হলো—
-
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে ‘প্রকৌশলী’ শব্দ ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়া
-
ডিপ্লোমাধারীদের পদোন্নতির মাধ্যমে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা
-
দশম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে কেবলমাত্র বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগ নিশ্চিত করা
এ দাবিতে মঙ্গলবারও তারা শাহবাগে অবস্থান নেন এবং বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো একই কর্মসূচি পালন করেন।
মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন— “আপস নয়, সংগ্রাম চাই”, “কোটা নয়, মেধার মূল্যায়ন চাই”, “ডিপ্লোমা কোটা বাতিল করো”, “নবম গ্রেডে অবৈধ পদোন্নতি চাই না”, “প্রকৌশলীর সংজ্ঞা রক্ষা করো”।
এ সময় শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মৎস্য ভবন ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়ার সময় হঠাৎ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। তবে এ ঘটনায় হতাহত বা আটক হওয়ার খবর এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে অগ্রসর হচ্ছিলেন, কিন্তু পুলিশ অযৌক্তিকভাবে বাধা দিয়ে সহিংসতা শুরু করেছে। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থেকে কিছুটা সরে গেলেও ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত ও থমথমে, আর নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।














