শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
- আপডেট সময় : ০১:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / 34
শেরপুর ও সাতক্ষীরায় এক ঝাঁক বিএনপি নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগদান উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইউনিয়নের রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন বিএনপির ২৪ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ফয়জুর রহমান ফিরোজ। তার উপস্থিতিতেই বিএনপি থেকে আসা কর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগদান করেন। এদের মধ্যে রয়েছেন— সোহেল রানা, মো. ইসমাইল, জাহিদুল ইসলাম, ইলিয়াস মিয়া, মো. মানিকুল, মো. ফারুক, মো. মামুন, মো. হাসান, মো. সাগর মিয়া, নোনা মিয়া, মো. রাকিবুল হাসান, ইবনে আনাজ, শফিকুল ইসলাম, সরাফাত মিয়া, হায়তুলা, মো. সেকান্দর আলী, মুসুদ, রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিক, মিলু মিয়া, মো. সেলিম মিয়া, মো. জাহিদুল ইসলাম ও মো. মোখন।
যোগদান প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নকলা উপজেলা আমীর গোলাম সারোয়ার জানান, নতুন কর্মীরা প্রায় দুই মাস আগে থেকেই জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন। তাদের প্রাথমিকভাবে জামায়াতের বিভিন্ন বই পড়তে দেওয়া হয়েছিল। এসব অধ্যয়ন শেষে এবং সংগঠনের কার্যক্রম ও আদর্শ সম্পর্কে জেনে তারা সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী ধাপে ধাপে সদস্যপদ দেওয়া হয়। প্রথমে সহযোগী সদস্য, এরপর কর্মী এবং সর্বশেষ রোকন বা পূর্ণ সদস্য। এই ২৪ জন বর্তমানে সহযোগী সদস্য হিসেবে দলে যোগ দিয়েছেন এবং তারা শিগগিরই কর্মী হিসেবে উন্নীত হবেন।”
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বিএনপির ২৪ জন নেতাকর্মী জামায়াতে যোগ দিয়েছেন— এ বিষয়ে আমি এখনো অবগত নই। অনেক সময় অন্য রাজনৈতিক দলের লোকজনও টেনে জামায়াতে নিয়ে যায়। তবে আমাদের কেউ আসলেই গেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। রাজনীতি সবার সাংবিধানিক অধিকার। কেউ হয়তো ক্ষোভ, অভিমান বা অন্য কোনো কারণে দল পরিবর্তন করতে পারেন। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলাতেও বিএনপি থেকে জামায়াতে বড় ধরনের যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গাজীরহাট বাজারে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ৪৯ জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি শীষ মুহাম্মদ জেরির সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক মাওলানা ওমর ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান মুকুল, জেলা শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মাও. আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা জামায়াত আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, নায়েবে আমির ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা নূরুল আবছার মুরতাজা, মাও. মোশাররফ হোসেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি ডা. রোকনুজ্জামান প্রমুখ।
এসময় উপজেলা অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল কুদ্দুছ, বুধহাটা ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আ. ওয়াদুদ, হাফেজ বেলাল হোসেন ও আব্দুস সালামসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং তার অনুসারী ৩০ জন, ৮নং ওয়ার্ডের ১০ জন এবং ৯নং ওয়ার্ডের ৯ জন নেতাকর্মী বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ দেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টানা যোগদানের এ ধারা সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় আনতে পারে।











