যে দল জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝবে না তাদের ভবিষ্যৎ নেই: আমীর খসরু
- আপডেট সময় : ০১:০৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 32
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের মানুষের মনোজগতে নতুন প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। যে রাজনৈতিক দল জনগণের এই আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করতে পারবে না, তাদের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
শনিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা: জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন জিয়াউর রহমান স্টাডি সার্কেল এই সেমিনারের আয়োজন করে।
আমীর খসরু বলেন, “শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের জনগণের মনোজগতে যে পরিবর্তন এসেছে, যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে—যে রাজনৈতিক দল সেটি বুঝতে পারবে না, আগামী রাজনীতিতে তাদের কোনো স্থান থাকবে না। নতুন বাংলাদেশে মানুষের প্রত্যাশার জায়গা অন্যত্র চলে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ ছিল অনিবার্য। “জনগণকে বাইরে রেখে ক্ষমতা দখল করলে এ ধরনের ঘটনা ঘটবেই। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখা ছাড়া তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব ছিল না,” মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “হাসিনা সরকারের সময়ে যারা সত্যিকারের ব্যবসা করতে চেয়েছেন, তারা করতে পারেননি। ব্যবসার নাম করে লুটপাট হয়েছে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।”
অর্থনীতি ও গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। অর্থনীতিকেও গণতান্ত্রিক করতে হবে, মিডিয়াকেও গণতান্ত্রিক করতে হবে। সাধারণ মানুষ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ না করলে কিংবা সাংবাদিকরা মুক্তভাবে কাজ করতে না পারলে গণতন্ত্র সফল হবে না।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম বলেন, “গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা ভয়াবহ। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিজ্ঞাপন নেই, ছোট কাগজগুলো কয়েক মাস ধরে সাংবাদিকদের বেতন দিতে পারছে না। বড় পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলও ঝুঁকির মধ্যে। সাংবাদিকদের ৮০ শতাংশই এখন অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যহীনতায় ভুগছেন।”
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব আশিক ইসলাম। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করার পর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩৬টি মামলা হয়েছে। এ সময় অন্তত ৪ হাজার ৫২০ জনকে আসামি করা হয়। শুধু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই এই আইনে ৪৫১টি মামলা হয়, যার মধ্যে ৯৭ জন গ্রেফতার হন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জিয়াউর রহমান স্টাডি সার্কেল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ কাসেম। সঞ্চালনায় ছিলেন ডিআরইউর সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার উপ-প্রধান বার্তা সম্পাদক জিএম রাজিব হোসেন।














