বাংলাদেশ ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

আগামীকাল উদ্বোধন হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা সেতু

  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 35

বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা সেতু (মাওলানা হামিদ ভাসানী সেতু) উদ্বোধনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর খেয়াঘাটকে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারি উপজেলার চিলমারি খেয়াঘাটের সঙ্গে সংযুক্ত করা এই সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেতুটি উদ্বোধন করবেন বলে সোমবার (১৮ আগস্ট) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে ২০১২ সালে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। যদিও ২০২৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত সবকিছু সম্পন্ন করে উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৮৫ কোটি টাকা। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে এবং এলজিইডির তত্ত্বাবধানে চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন সেতুটি নির্মাণ করেছে।

প্রকল্পের আওতায় হরিপুর ব্রিজ পয়েন্ট থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট থেকে হরিপুর ব্রিজ পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং চিলমারি থেকে মাটিকাটা পর্যন্ত ৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

মোট ব্যয়ের মধ্যে মূল সেতুতে ২৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, সড়ক নির্মাণে ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা, নদী ব্যবস্থাপনায় ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ভূমি অধিগ্রহণে ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

সেতুটিতে ৩০টি পিলার রয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি নদীর ভেতরে ও ২টি দুই তীরে। প্রায় সোয়া ৩ কিলোমিটার নদী ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়েছে।

সেতুটি চালু হলে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মধ্যে ভ্রমণের দূরত্ব প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সময়মতো বড় শহরে পাঠাতে পারবেন। বিশেষত কুড়িগ্রামের রাজীবপুর, চিলমারি, রৌমারী এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।

প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী জানান, “এটি উত্তরাঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের সহায়তা করবে। পাশাপাশি দেশের ইতিহাসে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নির্মিত সবচেয়ে বড় সেতু এটি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আগামীকাল উদ্বোধন হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা সেতু

আপডেট সময় : ০২:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা সেতু (মাওলানা হামিদ ভাসানী সেতু) উদ্বোধনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর খেয়াঘাটকে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারি উপজেলার চিলমারি খেয়াঘাটের সঙ্গে সংযুক্ত করা এই সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেতুটি উদ্বোধন করবেন বলে সোমবার (১৮ আগস্ট) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে ২০১২ সালে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। যদিও ২০২৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত সবকিছু সম্পন্ন করে উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৮৫ কোটি টাকা। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে এবং এলজিইডির তত্ত্বাবধানে চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন সেতুটি নির্মাণ করেছে।

প্রকল্পের আওতায় হরিপুর ব্রিজ পয়েন্ট থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট থেকে হরিপুর ব্রিজ পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং চিলমারি থেকে মাটিকাটা পর্যন্ত ৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

মোট ব্যয়ের মধ্যে মূল সেতুতে ২৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, সড়ক নির্মাণে ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা, নদী ব্যবস্থাপনায় ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ভূমি অধিগ্রহণে ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

সেতুটিতে ৩০টি পিলার রয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি নদীর ভেতরে ও ২টি দুই তীরে। প্রায় সোয়া ৩ কিলোমিটার নদী ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়েছে।

সেতুটি চালু হলে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মধ্যে ভ্রমণের দূরত্ব প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সময়মতো বড় শহরে পাঠাতে পারবেন। বিশেষত কুড়িগ্রামের রাজীবপুর, চিলমারি, রৌমারী এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।

প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী জানান, “এটি উত্তরাঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের সহায়তা করবে। পাশাপাশি দেশের ইতিহাসে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নির্মিত সবচেয়ে বড় সেতু এটি।”