বাংলাদেশ ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

শুল্ক ছাড়ের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর পথে বাংলাদেশ

  • আপডেট সময় : ০৬:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / 53

পাল্টা শুল্ক হ্রাসের কৌশলের অংশ হিসেবে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেড় বিলিয়ন বা ১৫০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দেবে বাংলাদেশ। সরকার আশা করছে, এ পদক্ষেপের ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার তুলনামূলকভাবে কম হবে। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করা। সে লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ নতুন যে আমদানির পরিকল্পনা করছে, তাতে আগামী দেড় বছরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি তিন বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৃতীয় দফার আলোচনা করতে সোমবার রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয় একটি সরকারি প্রতিনিধি দল। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওয়াশিংটনে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (USTR) কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৭০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যেখানে আমদানি হয়েছে মাত্র ২৭০ কোটি ডলারের পণ্য। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। এই ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনা, প্রতিবছর সাত লাখ টন গম আমদানির জন্য চুক্তি এবং এলএনজি ও সামরিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

ওয়াশিংটন যাত্রার আগে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের নতুন আমদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী দেড় বছরের মধ্যে আমদানি বাড়বে তিন বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রকে দেড় বিলিয়ন ডলার আমদানি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভিয়েতনাম যেখানে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়েও শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের ঘাটতি মাত্র ৬ বিলিয়ন ডলার। তাই বাংলাদেশের ওপর শুল্ক আরও কমানো সম্ভব বলে তারা আশাবাদী।

এ আলোচনার ফলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি চুক্তির পথ তৈরি হবে বলেও জানান সচিব। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ইস্যু এ আলোচনার বিষয় নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ককে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এছাড়া, বেসরকারিভাবে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলও যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে। তারা গম, তুলা ও সয়াবিন আমদানির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। এ দলের নেতৃত্বে আছেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কটন কাউন্সিলের নেতাদের সঙ্গে খুব শিগগিরই তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সচিব জানান, তিন বছর আগে বাংলাদেশ ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করত। পূর্বের অবস্থানে ফিরে যেতে পারলে এখান থেকেই এক বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।

এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও সয়াবিন আমদানিসহ বিভিন্ন খাতে নতুন চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কিংবা অনলাইনে সভার মাধ্যমে আমদানি বাড়ানোর কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শুল্ক ছাড়ের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর পথে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৬:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

পাল্টা শুল্ক হ্রাসের কৌশলের অংশ হিসেবে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেড় বিলিয়ন বা ১৫০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দেবে বাংলাদেশ। সরকার আশা করছে, এ পদক্ষেপের ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার তুলনামূলকভাবে কম হবে। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করা। সে লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ নতুন যে আমদানির পরিকল্পনা করছে, তাতে আগামী দেড় বছরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি তিন বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৃতীয় দফার আলোচনা করতে সোমবার রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয় একটি সরকারি প্রতিনিধি দল। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওয়াশিংটনে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (USTR) কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৭০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যেখানে আমদানি হয়েছে মাত্র ২৭০ কোটি ডলারের পণ্য। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। এই ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনা, প্রতিবছর সাত লাখ টন গম আমদানির জন্য চুক্তি এবং এলএনজি ও সামরিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

ওয়াশিংটন যাত্রার আগে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের নতুন আমদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী দেড় বছরের মধ্যে আমদানি বাড়বে তিন বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রকে দেড় বিলিয়ন ডলার আমদানি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভিয়েতনাম যেখানে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়েও শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের ঘাটতি মাত্র ৬ বিলিয়ন ডলার। তাই বাংলাদেশের ওপর শুল্ক আরও কমানো সম্ভব বলে তারা আশাবাদী।

এ আলোচনার ফলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি চুক্তির পথ তৈরি হবে বলেও জানান সচিব। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ইস্যু এ আলোচনার বিষয় নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ককে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এছাড়া, বেসরকারিভাবে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলও যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে। তারা গম, তুলা ও সয়াবিন আমদানির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। এ দলের নেতৃত্বে আছেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কটন কাউন্সিলের নেতাদের সঙ্গে খুব শিগগিরই তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সচিব জানান, তিন বছর আগে বাংলাদেশ ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করত। পূর্বের অবস্থানে ফিরে যেতে পারলে এখান থেকেই এক বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।

এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও সয়াবিন আমদানিসহ বিভিন্ন খাতে নতুন চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কিংবা অনলাইনে সভার মাধ্যমে আমদানি বাড়ানোর কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন।