বাংলাদেশ ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ছয়গুণ বাড়াতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস সচিব

Md Faridul Islam
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
  • / 80

 

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক:

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সামনে থাকা সাত মাসকে ‘নির্ধারণমূলক সময়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার (১ মে) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই সময়ের ভেতরই বাংলাদেশ হয় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে, নয়তো পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ছয় গুণ বাড়ানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বন্দরের বার্ষিক পণ্য ধারণক্ষমতা পৌঁছাবে ৭.৮৬ মিলিয়ন টিইইউ-তে (Twenty-foot Equivalent Unit)। এতে দেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে একটি ‘যুগান্তকারী পরিবর্তন’ আসবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু শর্তও তুলে ধরেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব ছাড়া এই প্রকল্প সফল হবে না।” সফল অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের প্রতি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। “এটি এক ধরনের বার্তা দেবে, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।”

বিশ্ব বাণিজ্য কাঠামোর প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল আলম বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ব্রেটন উডস ব্যবস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক বাণিজ্য শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। এই কাঠামোর মধ্য দিয়ে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, চীন, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির মাধ্যমে এগিয়ে গেছে।”

এই পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামনে এক বড় সম্ভাবনার জানালা খুলেছে বলে মত দেন তিনি। “দক্ষিণ এশিয়া এ দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে থাকলেও, এখন আমাদের জন্য একটি সোনালী সুযোগ এসেছে। আমরা কি সেটি কাজে লাগাতে পারবো?” এই প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও ব্যবসাবান্ধব মনোভাব গড়ে ওঠা আশাব্যঞ্জক দিক। এমনকি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এই মনোভাব তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সবকিছু ছাড়িয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন দেশের দুর্বল লজিস্টিক বা পরিবহন ব্যবস্থা। “বৃহৎ পরিমাণ পণ্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিবহণের সক্ষমতা এখনই একটি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হবে,” বলেন শফিকুল আলম। তার মতে, “এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে, বাংলাদেশ যে একটি উৎপাদনশীল শক্তি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশ করতে চায়, সে স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়বে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ছয়গুণ বাড়াতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস সচিব

আপডেট সময় : ০৮:৪২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫

 

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক:

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সামনে থাকা সাত মাসকে ‘নির্ধারণমূলক সময়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার (১ মে) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই সময়ের ভেতরই বাংলাদেশ হয় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে, নয়তো পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ছয় গুণ বাড়ানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বন্দরের বার্ষিক পণ্য ধারণক্ষমতা পৌঁছাবে ৭.৮৬ মিলিয়ন টিইইউ-তে (Twenty-foot Equivalent Unit)। এতে দেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে একটি ‘যুগান্তকারী পরিবর্তন’ আসবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু শর্তও তুলে ধরেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব ছাড়া এই প্রকল্প সফল হবে না।” সফল অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের প্রতি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। “এটি এক ধরনের বার্তা দেবে, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।”

বিশ্ব বাণিজ্য কাঠামোর প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল আলম বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ব্রেটন উডস ব্যবস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক বাণিজ্য শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। এই কাঠামোর মধ্য দিয়ে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, চীন, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির মাধ্যমে এগিয়ে গেছে।”

এই পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামনে এক বড় সম্ভাবনার জানালা খুলেছে বলে মত দেন তিনি। “দক্ষিণ এশিয়া এ দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে থাকলেও, এখন আমাদের জন্য একটি সোনালী সুযোগ এসেছে। আমরা কি সেটি কাজে লাগাতে পারবো?” এই প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও ব্যবসাবান্ধব মনোভাব গড়ে ওঠা আশাব্যঞ্জক দিক। এমনকি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এই মনোভাব তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সবকিছু ছাড়িয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন দেশের দুর্বল লজিস্টিক বা পরিবহন ব্যবস্থা। “বৃহৎ পরিমাণ পণ্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিবহণের সক্ষমতা এখনই একটি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হবে,” বলেন শফিকুল আলম। তার মতে, “এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে, বাংলাদেশ যে একটি উৎপাদনশীল শক্তি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশ করতে চায়, সে স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়বে।”