রিজার্ভে ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, প্রবাসী আয়ে বড় সাফল্য
- আপডেট সময় : ০৫:৪১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
- / 59
অনলাইন ডেস্ক:
চলতি বছরের জুন মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে এসেছে রেকর্ড উন্নতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ২৮২ কোটি ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। তখন এসেছিল ২৫৪ কোটি ডলার।
প্রবাসী আয়ে এমন প্রবৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৬৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে ২০২৪–২৫ অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয়ের মোট পরিমাণ ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩০ বিলিয়নের মাইলফলক।
গত অর্থবছরে দেশে এসেছিল ২৩৯১ কোটি ডলার। তার মানে এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬৪১ কোটি ডলার বা প্রায় ২৬.৮২ শতাংশ। করোনা মহামারির সময় ২০২০–২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সেটিও এবার ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ একক মাসে ৩৩০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯৭ কোটি ডলার এসেছিল গত মে মাসে। জুনে ঈদের ছুটির কারণে টানা ১০ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার পরও রেমিট্যান্স প্রবাহে এই উচ্চতা উল্লেখযোগ্য।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হুন্ডির মাধ্যমে অবৈধ পথে টাকা পাঠানোর প্রবণতা কমে যাওয়াও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সরকারের কড়া নজরদারি, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ১১টি যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম এই প্রবণতা কমাতে সহায়তা করেছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে কয়েকটি অবৈধ সম্পত্তি জব্দের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এতে প্রবাসীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে বৈধ চ্যানেলের প্রতি।
রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি আয়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ৫ বিলিয়নের বেশি ঋণ আসায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হিসাব করলে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। আইএমএফের বিপিএম৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী, যেখানে ইডিএফসহ বিভিন্ন তহবিলে দেওয়া ঋণ বাদ দেওয়া হয়, সেই হিসেবে জুন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.৬৬ বিলিয়ন ডলার।
এই বিপিএম৬ হিসাব অনুযায়ী গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আগস্টে রিজার্ভ কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে।
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, যখন এটি ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। তবে অর্থপাচার ও আমদানি–রপ্তানিতে ভারসাম্যহীনতার কারণে তা দ্রুত তলানিতে নেমে যায়। সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোতে আস্থাশীল অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রিজার্ভ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হতে পারে যদি প্রবাসী আয় এবং রপ্তানি আয় এমন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে।
















