এনবিআরের চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, দুর্নীতির তদন্ত শুরু
- আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
- / 57
অনলাইন ডেস্ক:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। অবসরে পাঠানো হয়েছে সদস্য (কর গোয়েন্দা ও তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন, সদস্য (কাস্টমস নীতি) হোসেন আহমদ, সদস্য (ভ্যাট নীতি) ড. মো. আবদুর রউফ এবং আয়কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মো. শব্বির আহমদকে। তাদের চাকরির বয়সকাল পূর্ণ হওয়ায় বুধবার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সরকারের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থ বিবেচনায় তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগের দিন মধ্যরাতে এক কমিশনারকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সময় বন্ধ রাখায় কমিশনার মো. জাকির হোসেনকে মঙ্গলবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এনবিআর কর্মকর্তাদের দাবি ও আন্দোলনের পটভূমিতে গত মে মাসে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি হয়। আন্দোলনের শেষ দিকে সংস্থার সব সদস্যও এতে যোগদান করেন।
অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন। অন্যদিকে কমিশনার শব্বির আহমদকে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ার দায়িত্বে দেখা গেছে। এনবিআরের সংস্কার ও রাজস্ব আদায়ের নানা প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন।
মে মাসে এনবিআর বিলুপ্তির সময় কর্মচারীরা রাজস্ব ও নীতি বিভাগের আলাদা করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন। পরবর্তীতে সরকার আলোচনার মাধ্যমে সংস্কার চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে এনবিআরের কর্মকর্তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহ ব্যাপী টানা আন্দোলন চালান। সেই সময় দেশের কাস্টম ও ভ্যাট দপ্তরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ হয়।
শাটডাউনের প্রভাবে সরকারের অবস্থান কড়া হয় এবং আন্দোলনরতদের কাজে যোগ দিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এই সময় দুদক ছয়জন এনবিআর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য অনুসন্ধান শুরু করে। তবে আলোচনা বঞ্চিত থাকা আন্দোলনকারীরা কঠোর অবস্থানে ছিলেন।
সংকট সমাধানের লক্ষ্যে পাঁচ উপদেষ্টাকে নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করার কথা ঘোষণা করা হয়। এরপর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ শাটডাউন তুলে নেয়। এরপর থেকে কাস্টম হাউজ খুলে দেওয়া হয় এবং কর্মচারীরা কাজে ফিরেন।
তবে এনবিআরের কর্মক্ষেত্রে বদলি, মামলা ও বরখাস্তের আতঙ্ক এখনো বিরাজ করছে। মঙ্গলবার আরও পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্যানুসন্ধান শুরু করে দুদক।
এনবিআরের এই সংকট ও সংস্কারের প্রক্রিয়া দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলায় সংশ্লিষ্ট সকলের নজর রাখছে।
















