ঘুষ না দেওয়ায় জামায়াত নেতাদের ওপর ক্ষেপলেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা
- আপডেট সময় : ০৪:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
- / 63
ঘুষ না দেওয়ার কারণে অবসরপ্রাপ্ত নার্সের বেতন ও অবসর ভাতার ফাইল আটকে রেখে হয়রানি এবং দলীয় পরিচয়ের কারণে নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সিনিয়র নার্স আতোয়ারা খাতুন এলপিআরের (ঐচ্ছিক অবসর) জন্য আবেদন করেন। পরে ১৭ নভেম্বর ইএলপিআর অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট ফাইল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের পহেলা মার্চ থেকে তিনি বেতন ও অবসর ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
ভুক্তভোগী আতোয়ারা খাতুন উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার জামায়াতে ইসলামীর কর্মী কাদের মোল্লার স্ত্রী।
এ বিষয়ে নার্স আতোয়ারা খাতুন বলেন, “প্রায় ৮ মাস ধরে আমি হয়রানির শিকার হচ্ছি। সব ধরনের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। সম্ভবত ঘুষ দিতে না পারায় আমাকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।”
তার স্বামী জামায়াত কর্মী আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, “আমার স্ত্রীর ফাইল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে আছি। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে আজ কয়েকজনসহ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাই। সেখানে সাইদুজ্জামান বিধি বহির্ভূত অজুহাত দেখিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হন এবং দুর্ব্যবহার করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কাউকে ধমক দিইনি। কর্মকর্তার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।”
রৌমারী উপজেলা জামায়াতের নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার এক সাথীর স্ত্রীর অবসর সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাইলে, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সঠিক জবাব না দিয়ে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা আমির মীমাংসা করে দেন।”
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান ঘুষ চাওয়ার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টা হলো যে, পরিস্থিতি এখন অস্বাভাবিক। আমি চাই না এটি আপনাদের নিউজে আসুক। এমন কিছু ঘটনা ঘটেনি। এটা একটা অফিসের আরেকটা অফিসে হতে পারে। তবে আমি কালক্ষেপণ করে দিচ্ছি না বিষয় টা এটা না।
তিনি আরও বলেন, আসছিলো বিষয়টা জানার জন্য, শোনার জন্য এবং নেওয়ার জন্য। ওনারা (জামায়াত নেতাকর্মীরা) আসবে পরবর্তীতে জুনের পরে আসবে।
মারপিটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, না এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এ প্রসঙ্গে রৌমারী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর হায়দার আলী বলেন, বেতন-অবসর ভাতার ফাইল নিয়ে হয়রানি করার বিষয়ে তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে আমি গিয়ে তাদের শান্ত হতে বলি। এক পর্যায়ে তাদের বাগবিতণ্ডা বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, জেনেছি নার্স আতোয়ারা খাতুনের অবসর ভাতার ফাইল নিয়ে হয়রানি করছেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। তাই এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার জানান, ছুটিতে রয়েছি। তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই অবগত নই। তবে খোঁজখবর নেওয়া হবে।”













