বাংলাদেশ ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

স্বরূপে ফিরছে সিলেটের ‘সাদাপাথর’, পর্যটকদের পদচারণায় মুখর এলাকা

  • আপডেট সময় : ০১:৪২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 35

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বহুল আলোচিত পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ আবারও স্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে। কয়েকশ’ কোটি টাকার পাথর লুটে শ্রীহীন হয়ে পড়া এ পর্যটনকেন্দ্রটিকে ঘিরে ফের প্রাণ ফিরে পাচ্ছে পর্যটন খাত। প্রশাসনের কঠোর অভিযান ও উদ্ধারকৃত পাথর ধলাই নদীতে প্রতিস্থাপনের পর দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের ভিড়।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের নিরবতা ভেঙে কয়েকশ’ পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন সাদাপাথরে। পর্যটকরা নৌকা ভ্রমণে মেতে ওঠেন, কেউ ধলাই নদীর স্বচ্ছ জলে সাঁতার কাটেন, আবার কেউবা প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে রাখেন স্মৃতির অ্যালবামে।

তবে লুটপাটের আগে যারা এখানে এসেছিলেন, তাদের অনেকেই আগের সৌন্দর্য হারানোর আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, আগে পাথরের প্রাচুর্য ছিল অনেক বেশি, যা সৌন্দর্যকে অন্য মাত্রা দিত। তবে যারা প্রথমবারের মতো এসেছেন, তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। বর্তমান যে পরিমাণ পাথর রয়েছে, তাতেই তারা ভীষণ মুগ্ধ।

উল্লেখ্য, পাথর লুটের ঘটনার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে যৌথ বাহিনী সিলেট অঞ্চলে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অন্তত সাড়ে ৫ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে উদ্ধারকৃত পাথরগুলো ধলাই নদীতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এখনো অভিযান চলছে। পাশাপাশি সিলেট জেলা প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে, সাদাপাথর এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। এতে পর্যটকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

প্রবাসী মাহিদুল ইসলাম পরিবারসহ ঘুরতে এসে বলেন, “এত বড় লুটপাটের পরও যদি সাদাপাথরের এই রূপ থাকে, তবে আগে কতটা সুন্দর ছিল তা কল্পনাই করা যায় না। আমার ছেলে ও স্ত্রী এখানে এসে মুগ্ধ। সুযোগ পেলেই আবার আসব।”

এদিকে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেট (টোয়াস)-এর আহ্বায়ক হুমায়ূন কবীর লিটন বলেন, “সাদাপাথরের যে ক্ষতি হয়েছে তা আর পূরণ হওয়ার নয়। মানুষের হাতে পাথর প্রতিস্থাপন ও প্রকৃতির নিজস্ব প্রতিস্থাপনের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এই ঘটনার শিক্ষা নিয়ে সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র রক্ষায় কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হতে হবে।”

পর্যটকদের মতে, সিলেটের সৌন্দর্য নদী, পাথর আর পাহাড়ের মিশেলে গড়ে উঠেছে। এগুলো রক্ষায় সরকার ও স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে পর্যটনকে টেকসই করতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্বরূপে ফিরছে সিলেটের ‘সাদাপাথর’, পর্যটকদের পদচারণায় মুখর এলাকা

আপডেট সময় : ০১:৪২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বহুল আলোচিত পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ আবারও স্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে। কয়েকশ’ কোটি টাকার পাথর লুটে শ্রীহীন হয়ে পড়া এ পর্যটনকেন্দ্রটিকে ঘিরে ফের প্রাণ ফিরে পাচ্ছে পর্যটন খাত। প্রশাসনের কঠোর অভিযান ও উদ্ধারকৃত পাথর ধলাই নদীতে প্রতিস্থাপনের পর দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের ভিড়।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের নিরবতা ভেঙে কয়েকশ’ পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন সাদাপাথরে। পর্যটকরা নৌকা ভ্রমণে মেতে ওঠেন, কেউ ধলাই নদীর স্বচ্ছ জলে সাঁতার কাটেন, আবার কেউবা প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে রাখেন স্মৃতির অ্যালবামে।

তবে লুটপাটের আগে যারা এখানে এসেছিলেন, তাদের অনেকেই আগের সৌন্দর্য হারানোর আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, আগে পাথরের প্রাচুর্য ছিল অনেক বেশি, যা সৌন্দর্যকে অন্য মাত্রা দিত। তবে যারা প্রথমবারের মতো এসেছেন, তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। বর্তমান যে পরিমাণ পাথর রয়েছে, তাতেই তারা ভীষণ মুগ্ধ।

উল্লেখ্য, পাথর লুটের ঘটনার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে যৌথ বাহিনী সিলেট অঞ্চলে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অন্তত সাড়ে ৫ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে উদ্ধারকৃত পাথরগুলো ধলাই নদীতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এখনো অভিযান চলছে। পাশাপাশি সিলেট জেলা প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে, সাদাপাথর এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। এতে পর্যটকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

প্রবাসী মাহিদুল ইসলাম পরিবারসহ ঘুরতে এসে বলেন, “এত বড় লুটপাটের পরও যদি সাদাপাথরের এই রূপ থাকে, তবে আগে কতটা সুন্দর ছিল তা কল্পনাই করা যায় না। আমার ছেলে ও স্ত্রী এখানে এসে মুগ্ধ। সুযোগ পেলেই আবার আসব।”

এদিকে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেট (টোয়াস)-এর আহ্বায়ক হুমায়ূন কবীর লিটন বলেন, “সাদাপাথরের যে ক্ষতি হয়েছে তা আর পূরণ হওয়ার নয়। মানুষের হাতে পাথর প্রতিস্থাপন ও প্রকৃতির নিজস্ব প্রতিস্থাপনের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এই ঘটনার শিক্ষা নিয়ে সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র রক্ষায় কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হতে হবে।”

পর্যটকদের মতে, সিলেটের সৌন্দর্য নদী, পাথর আর পাহাড়ের মিশেলে গড়ে উঠেছে। এগুলো রক্ষায় সরকার ও স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে পর্যটনকে টেকসই করতে।