বাংলাদেশ ১১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

মোদীকে পাকিস্তানের হামলার হুমকি জানিয়ে সতর্ক করেন জেডি ভ্যান্স

  • আপডেট সময় : ০৫:৫০:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
  • / 65

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, গত ৯ মে রাতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করে পাকিস্তানের সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক হামলা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। তিনি জানান, সেই সময় তিনি নিজে ফোনালাপের সময় উপস্থিত ছিলেন। জয়শঙ্করের ভাষ্যমতে, ভ্যান্স মোদীকে স্পষ্ট করে বলেন, যদি ভারত নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে সম্মতি না দেয়, তবে পাকিস্তান একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে পারে।

এমন পরিস্থিতির সূত্রপাত হয় গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সংঘটিত ভয়াবহ এক হামলার পর। ওই ঘটনায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তান-সমর্থিত বলে অভিযুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)। যদিও পাকিস্তান তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায় এবং সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরে কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর আগেই কৌশলগত জোট কোয়াড—যার সদস্য ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া—পেহেলগাম হামলার নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দেয়। তবে বিবৃতিতে সরাসরি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ওই ফোন কেবল ভারতকে সতর্ক করতেই নয়, বরং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে ভারতকে কিছু শর্ত মেনে চলার কথাও বলা হয়েছিল। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ফোনালাপ এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকারই একটি বহিঃপ্রকাশ। একইসঙ্গে এটি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র—ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক উত্তেজনার সম্ভাব্য বিস্তার রোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মোদীকে পাকিস্তানের হামলার হুমকি জানিয়ে সতর্ক করেন জেডি ভ্যান্স

আপডেট সময় : ০৫:৫০:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, গত ৯ মে রাতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করে পাকিস্তানের সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক হামলা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। তিনি জানান, সেই সময় তিনি নিজে ফোনালাপের সময় উপস্থিত ছিলেন। জয়শঙ্করের ভাষ্যমতে, ভ্যান্স মোদীকে স্পষ্ট করে বলেন, যদি ভারত নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে সম্মতি না দেয়, তবে পাকিস্তান একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে পারে।

এমন পরিস্থিতির সূত্রপাত হয় গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সংঘটিত ভয়াবহ এক হামলার পর। ওই ঘটনায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তান-সমর্থিত বলে অভিযুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)। যদিও পাকিস্তান তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায় এবং সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরে কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর আগেই কৌশলগত জোট কোয়াড—যার সদস্য ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া—পেহেলগাম হামলার নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দেয়। তবে বিবৃতিতে সরাসরি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ওই ফোন কেবল ভারতকে সতর্ক করতেই নয়, বরং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে ভারতকে কিছু শর্ত মেনে চলার কথাও বলা হয়েছিল। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ফোনালাপ এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকারই একটি বহিঃপ্রকাশ। একইসঙ্গে এটি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র—ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক উত্তেজনার সম্ভাব্য বিস্তার রোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।