ইরানকে ঘিরে ইউরোপের অবস্থানে তীব্র ক্ষোভ, বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করল তেহরান
- আপডেট সময় : ০৫:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
- / 57
অনলাইন ডেস্ক:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কয়েকটি দেশের ইরানবিরোধী অবস্থানকে ‘বিধ্বংসী দৃষ্টিভঙ্গি’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি ইইউ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে মঙ্গলবার নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানান তিনি।
বিবৃতিতে আরাঘচি বলেন, “ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইউরোপের কিছু দেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। এ ধরনের পক্ষপাতমূলক ও ধ্বংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের জন্য অশুভ ইঙ্গিত বহন করে।” যদিও কোনো দেশের নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি তিনি।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে ইউরোপের প্রতিক্রিয়ারও তীব্র সমালোচনা করেন ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাত শুধু উত্তেজনা আরও বাড়াবে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে না।
এর আগে, মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে সামরিক হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান কোনো বোমা হামলায় মুছে ফেলা যাবে না।”
তিনি আরও জানান, ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই প্রযুক্তি সামরিক নয় বরং বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন বিনা উসকানিতে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা ১২ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক-বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালায়।
যুদ্ধের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে সামরিকভাবে যুক্ত হয় এবং বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালায়।
হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, “এই তিনটি স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।” তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক মূল্যায়নের মিল নেই। ফাঁস হওয়া একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি, বরং তা কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে গেছে মাত্র।”
ইরান দাবি করছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, প্রেস টিভি.















