বাংলাদেশ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে হেগের রায়: ভারতকে কড়া বার্তা দিল পাকিস্তান

  • আপডেট সময় : ০৪:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • / 54

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত স্থায়ী আদালত (PCA) সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান-ভারত বিরোধের বিষয়ে একটি সম্পূরক রায় ঘোষণা করেছে। এরপর পাকিস্তান ভারতকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে—সিন্ধু পানি চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে এবং আন্তরিকভাবে মেনে চলতে হবে। পাকিস্তান বলছে, গত মে মাস থেকে ভারত এই ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর রাখা থেকে বিরত রয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ জুন ঘোষিত আদালতের সম্পূরক রায়ে কিশেনগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে উত্থাপিত বিরোধের বিষয়ে আদালতের এখতিয়ার বহাল রয়েছে। আদালত বলেছে, এসব বিরোধের নিষ্পত্তি সময়োপযোগী, দক্ষ এবং ন্যায়সংগতভাবে সম্পন্ন করা হবে।

পাকিস্তানের মতে, এই রায় প্রমাণ করে যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো বৈধ ও কার্যকর। ভারত এই চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার কোনো আইনি অধিকার রাখে না।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতীয় অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে এক প্রাণঘাতী হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত অভিযোগ তোলে যে এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র রয়েছে। যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।

এই ঘটনার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি কার্যকর রাখা থেকে বিরত থাকে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

সিন্ধু নদ অববাহিকায় ভারতীয় অংশে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবহারের অধিকার নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। এই ব্যবহার নির্ধারিত হয়েছে ১৯৬০ সালের সেই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে—কোনো পক্ষ একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করতে পারবে না।

পাকিস্তান আগেই আদালতের সম্পূরক রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, এতে আদালতের এখতিয়ার নিশ্চিত হয়েছে। দেশটি ভারতকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—চুক্তি লঙ্ঘন বা একতরফা সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ভারতকে আবারও চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে হেগের রায়: ভারতকে কড়া বার্তা দিল পাকিস্তান

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত স্থায়ী আদালত (PCA) সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান-ভারত বিরোধের বিষয়ে একটি সম্পূরক রায় ঘোষণা করেছে। এরপর পাকিস্তান ভারতকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে—সিন্ধু পানি চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে এবং আন্তরিকভাবে মেনে চলতে হবে। পাকিস্তান বলছে, গত মে মাস থেকে ভারত এই ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর রাখা থেকে বিরত রয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ জুন ঘোষিত আদালতের সম্পূরক রায়ে কিশেনগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে উত্থাপিত বিরোধের বিষয়ে আদালতের এখতিয়ার বহাল রয়েছে। আদালত বলেছে, এসব বিরোধের নিষ্পত্তি সময়োপযোগী, দক্ষ এবং ন্যায়সংগতভাবে সম্পন্ন করা হবে।

পাকিস্তানের মতে, এই রায় প্রমাণ করে যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো বৈধ ও কার্যকর। ভারত এই চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার কোনো আইনি অধিকার রাখে না।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতীয় অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে এক প্রাণঘাতী হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত অভিযোগ তোলে যে এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র রয়েছে। যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।

এই ঘটনার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি কার্যকর রাখা থেকে বিরত থাকে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

সিন্ধু নদ অববাহিকায় ভারতীয় অংশে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবহারের অধিকার নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। এই ব্যবহার নির্ধারিত হয়েছে ১৯৬০ সালের সেই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে—কোনো পক্ষ একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করতে পারবে না।

পাকিস্তান আগেই আদালতের সম্পূরক রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, এতে আদালতের এখতিয়ার নিশ্চিত হয়েছে। দেশটি ভারতকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—চুক্তি লঙ্ঘন বা একতরফা সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ভারতকে আবারও চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।