বাংলাদেশ ০১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

ট্রাম্পের ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
  • / 55

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফেডারেল বিচারকদের ক্ষমতা সীমিত করে নতুন এক নজির সৃষ্টি করেছে। এ রায়ের ফলে অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের পথ সহজ হলো।

এই রায়কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘বিশাল জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, ক্ষমতার ভারসাম্য ও আইনের শাসন রক্ষার পক্ষে গেছে। তিনি বলেন, আদালতের আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো গণতন্ত্রের জন্য ছিল ‘মারাত্মক হুমকি’।

মূল মামলাটি ছিল ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশকে ঘিরে, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এমন ব্যক্তি এবং অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদান বন্ধে উদ্যোগ নেন। যদিও সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে রায় দেয়নি, বরং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার পরিধি নিয়ে রায় দিয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম যদি অসাংবিধানিক বা বেআইনি মনে হয়, তবে তা স্থগিত করার জন্য আদালতকে আরও ব্যাপক বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর মানে, প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে নির্বাহী আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে এবং এই সিদ্ধান্ত নিজেও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই একাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর বিরুদ্ধে ২২টি রাজ্য ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে মামলা করে। ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস এবং ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব মামলা প্রথম পর্যায়ে ট্রাম্পের আদেশ আটকে দেয়। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে যুক্তি দেয় যে এসব আদেশ সাংবিধানিক। সুপ্রিম কোর্ট শেষপর্যন্ত সরকারের পক্ষে রায় দেয়।

এই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও জোরালো অবস্থান লাভ করলেন এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষা পেলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ট্রাম্পের ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট সময় : ১০:১৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফেডারেল বিচারকদের ক্ষমতা সীমিত করে নতুন এক নজির সৃষ্টি করেছে। এ রায়ের ফলে অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের পথ সহজ হলো।

এই রায়কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘বিশাল জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, ক্ষমতার ভারসাম্য ও আইনের শাসন রক্ষার পক্ষে গেছে। তিনি বলেন, আদালতের আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো গণতন্ত্রের জন্য ছিল ‘মারাত্মক হুমকি’।

মূল মামলাটি ছিল ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশকে ঘিরে, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এমন ব্যক্তি এবং অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদান বন্ধে উদ্যোগ নেন। যদিও সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে রায় দেয়নি, বরং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার পরিধি নিয়ে রায় দিয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম যদি অসাংবিধানিক বা বেআইনি মনে হয়, তবে তা স্থগিত করার জন্য আদালতকে আরও ব্যাপক বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর মানে, প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে নির্বাহী আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে এবং এই সিদ্ধান্ত নিজেও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই একাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর বিরুদ্ধে ২২টি রাজ্য ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে মামলা করে। ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস এবং ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব মামলা প্রথম পর্যায়ে ট্রাম্পের আদেশ আটকে দেয়। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে যুক্তি দেয় যে এসব আদেশ সাংবিধানিক। সুপ্রিম কোর্ট শেষপর্যন্ত সরকারের পক্ষে রায় দেয়।

এই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও জোরালো অবস্থান লাভ করলেন এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষা পেলেন।