খাবারের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে ইসরায়েলের গুলিতে প্রাণ হারালেন মা
- আপডেট সময় : ০৯:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
- / 65
অনলাইন ডেস্ক:
ফিলিস্তিনের গাজার ৪২ বছর বয়সী রিম জেইদান দুই সন্তানকে নিয়ে খান ইউনিস থেকে রাফার ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের জন্য কিছু খাবার সংগ্রহ করা। কিন্তু সেই যাত্রা শেষ হয় মর্মান্তিকভাবে—ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।
সূর্যাস্তের ঠিক পর রিম সন্তানদের নিয়ে রওনা হন রাফার একটি ত্রাণকেন্দ্রের দিকে। রুটি তৈরির জন্য আটা এবং মেয়ে রাজানের জন্য বিস্কুট সংগ্রহের আশায় সঙ্গে ব্যাগও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ত্রাণকেন্দ্রের কাছাকাছি গুলির খবর শুনে আতঙ্কে একটি তাঁবুতে আশ্রয় নেন।
পরে ভোররাতে তাঁবু থেকে বের হয়ে যখন তারা কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন ইসরায়েলি বাহিনী ফের গুলিবর্ষণ শুরু করে। মেয়ে মেরভাত জানায়, গুলির শব্দের মধ্যে হঠাৎ সে মায়ের চিৎকার শুনে পেছনে তাকায় এবং দেখে মা মাটিতে পড়ে আছেন, মুখ রক্তে ভেজা।
মেরভাত বলে, “আমি কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। শুধু দেখলাম আমার মা রক্তের সাগরে পড়ে আছেন।” সে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, “তোমাকে ওরা মেরে ফেলেছে মা, কারণ তুমি আমাদের খাবার আনতে গিয়েছিলে।”
মঙ্গলবার গাজা জুড়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭০ জন। এর মধ্যে ৫২ জনই ছিলেন ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের আশপাশে। শুধু রাফাতে প্রাণ গেছে অন্তত ২৭ জনের। গাজার মধ্যাঞ্চলে সালাহ আল-দিন সড়কে নিহত হয়েছেন আরও ২৫ জন।
গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬ হাজার ৭৭ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৮৪৮ জন। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ক্ষুধার্ত মানুষকে হত্যা অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, খাবারের খোঁজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং অন্তত ১,০০০ জন আহত হয়েছেন। UNRWA প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলো এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।”
এদিকে দক্ষিণ লেবাননেও ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ওই তিনজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।















