বাংলাদেশ ১১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

খাবারের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে ইসরায়েলের গুলিতে প্রাণ হারালেন মা

  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
  • / 65

অনলাইন ডেস্ক:

ফিলিস্তিনের গাজার ৪২ বছর বয়সী রিম জেইদান দুই সন্তানকে নিয়ে খান ইউনিস থেকে রাফার ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের জন্য কিছু খাবার সংগ্রহ করা। কিন্তু সেই যাত্রা শেষ হয় মর্মান্তিকভাবে—ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।

সূর্যাস্তের ঠিক পর রিম সন্তানদের নিয়ে রওনা হন রাফার একটি ত্রাণকেন্দ্রের দিকে। রুটি তৈরির জন্য আটা এবং মেয়ে রাজানের জন্য বিস্কুট সংগ্রহের আশায় সঙ্গে ব্যাগও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ত্রাণকেন্দ্রের কাছাকাছি গুলির খবর শুনে আতঙ্কে একটি তাঁবুতে আশ্রয় নেন।

পরে ভোররাতে তাঁবু থেকে বের হয়ে যখন তারা কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন ইসরায়েলি বাহিনী ফের গুলিবর্ষণ শুরু করে। মেয়ে মেরভাত জানায়, গুলির শব্দের মধ্যে হঠাৎ সে মায়ের চিৎকার শুনে পেছনে তাকায় এবং দেখে মা মাটিতে পড়ে আছেন, মুখ রক্তে ভেজা।

মেরভাত বলে, “আমি কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। শুধু দেখলাম আমার মা রক্তের সাগরে পড়ে আছেন।” সে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, “তোমাকে ওরা মেরে ফেলেছে মা, কারণ তুমি আমাদের খাবার আনতে গিয়েছিলে।”

মঙ্গলবার গাজা জুড়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭০ জন। এর মধ্যে ৫২ জনই ছিলেন ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের আশপাশে। শুধু রাফাতে প্রাণ গেছে অন্তত ২৭ জনের। গাজার মধ্যাঞ্চলে সালাহ আল-দিন সড়কে নিহত হয়েছেন আরও ২৫ জন।

গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬ হাজার ৭৭ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৮৪৮ জন। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ক্ষুধার্ত মানুষকে হত্যা অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, খাবারের খোঁজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং অন্তত ১,০০০ জন আহত হয়েছেন। UNRWA প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলো এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।”

এদিকে দক্ষিণ লেবাননেও ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ওই তিনজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খাবারের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে ইসরায়েলের গুলিতে প্রাণ হারালেন মা

আপডেট সময় : ০৯:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

ফিলিস্তিনের গাজার ৪২ বছর বয়সী রিম জেইদান দুই সন্তানকে নিয়ে খান ইউনিস থেকে রাফার ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের জন্য কিছু খাবার সংগ্রহ করা। কিন্তু সেই যাত্রা শেষ হয় মর্মান্তিকভাবে—ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।

সূর্যাস্তের ঠিক পর রিম সন্তানদের নিয়ে রওনা হন রাফার একটি ত্রাণকেন্দ্রের দিকে। রুটি তৈরির জন্য আটা এবং মেয়ে রাজানের জন্য বিস্কুট সংগ্রহের আশায় সঙ্গে ব্যাগও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ত্রাণকেন্দ্রের কাছাকাছি গুলির খবর শুনে আতঙ্কে একটি তাঁবুতে আশ্রয় নেন।

পরে ভোররাতে তাঁবু থেকে বের হয়ে যখন তারা কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন ইসরায়েলি বাহিনী ফের গুলিবর্ষণ শুরু করে। মেয়ে মেরভাত জানায়, গুলির শব্দের মধ্যে হঠাৎ সে মায়ের চিৎকার শুনে পেছনে তাকায় এবং দেখে মা মাটিতে পড়ে আছেন, মুখ রক্তে ভেজা।

মেরভাত বলে, “আমি কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। শুধু দেখলাম আমার মা রক্তের সাগরে পড়ে আছেন।” সে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, “তোমাকে ওরা মেরে ফেলেছে মা, কারণ তুমি আমাদের খাবার আনতে গিয়েছিলে।”

মঙ্গলবার গাজা জুড়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭০ জন। এর মধ্যে ৫২ জনই ছিলেন ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের আশপাশে। শুধু রাফাতে প্রাণ গেছে অন্তত ২৭ জনের। গাজার মধ্যাঞ্চলে সালাহ আল-দিন সড়কে নিহত হয়েছেন আরও ২৫ জন।

গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬ হাজার ৭৭ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৮৪৮ জন। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ক্ষুধার্ত মানুষকে হত্যা অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, খাবারের খোঁজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং অন্তত ১,০০০ জন আহত হয়েছেন। UNRWA প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলো এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।”

এদিকে দক্ষিণ লেবাননেও ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ওই তিনজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।