ইরানকে সহায়তা না করার কারণ জানালেন পুতিন
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
- / 73
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হওয়ার পর যখন তেহরান তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা প্রত্যাশা করছে, তখন রাশিয়া কেন নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে— সেই বিষয়ে খোলাসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক থাকলেও চলমান উত্তেজনায় মস্কো নিরপেক্ষ থাকবে বলে জানিয়েছেন পুতিন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-এর বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পুতিনের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো ইসরায়েলে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক রুশভাষী জনগোষ্ঠী।
সম্প্রতি সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে এক অধিবেশনে পুতিন বলেন, “সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রুশ ফেডারেশনের প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখন ইসরায়েলে বসবাস করছেন। ইসরায়েল রীতিমতো রুশভাষী একটি রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে। সুতরাং আমাদের সমসাময়িক পররাষ্ট্রনীতিতে এই বিষয়টি আমরা সর্বদা বিবেচনায় রাখি।”
পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং দেশটি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) একজন পর্যবেক্ষক সদস্যও বটে। ফলে এই অঞ্চলের সংঘাতের ক্ষেত্রে রাশিয়া ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে বাধ্য।
প্রসঙ্গত, ১৩ জুন ইসরায়েলের হামলায় ইরানের একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়। এর পাল্টা জবাবে ইরানও হামলা শুরু করে। পরে ২১ জুন যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে এক সামরিক অভিযানে ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান পারমাণবিক স্থাপনায় প্রায় ১৪ হাজার কেজি ওজনের বাঙ্কার-বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করে। এ হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অসাধারণ সামরিক সাফল্য’ হিসেবে আখ্যা দেন।
এ হামলার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরায়েলের দিকে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরান প্রথমে প্রতিশোধ নেবে, তারপর আলোচনায় ফিরবে। তার দাবি, ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করেছে।















