ইরানে অনুপ্রবেশ করেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা! গোপনীয় স্থানে খামেনি
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
- / 59
অনলাইন ডেস্ক:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সম্ভাব্য প্রাণনাশের হুমকির মুখে অতি গোপনীয় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে শীর্ষ একটি বিশেষ ইউনিট, যার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে এমনকি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও এ ইউনিটের সদস্যদের সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্যরা ইরানের বিভিন্ন এলাকায় অনুপ্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর জেরে দেশটির শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘‘খামেনি বাংকারে নেই, তবে তিনি বিপদের মধ্যে আছেন। তাকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ একটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে, যার অস্তিত্বই অনেকের অজানা। এর লক্ষ্য—যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ প্রতিহত করা।’’
খামেনি বহুদিন ধরে ইসরায়েলকে তার প্রাণনাশের হুমকি হিসেবে দেখিয়ে আসছেন। ইসরায়েল সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের অন্তত ১১ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ১৪ জন পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে। এতে খামেনির প্রাণনাশের আশঙ্কা আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টেলিগ্রাফ আরও জানায়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সরাসরি খামেনির মৃত্যু কামনা করছেন। কাৎজ খামেনিকে ‘আধুনিক হিটলার’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘‘তাকে বাঁচতে দেওয়া ঠিক হবে না।’’
অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় আছেন, তবে আপাতত তাকে লক্ষ্য করে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে পরিস্থিতি বদলালে খামেনি ‘সহজ লক্ষ্য’ হয়ে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
৮৬ বছর বয়সী খামেনি এর আগে তেহরানের ডিস্ট্রিক্ট ১১-তে ‘লিডারশিপ হাউস কমপ্লেক্সে’ বসবাস করলেও সাম্প্রতিক ভিডিওগুলো দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি তার অবস্থান বদলেছেন। ভিডিও বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি মধ্য তেহরানের আইআরজিসির গণমাধ্যম কেন্দ্র থেকে ভিডিও বার্তা রেকর্ড করছেন বা আশপাশেই কোথাও অবস্থান করছেন।
তেহরানে সম্প্রতি একের পর এক রহস্যজনক গাড়ি বিস্ফোরণ এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার ঘটনার পর খামেনির এই উচ্চস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ, মোসাদের গোপন হত্যা অভিযান অতীতেও বহুবার সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘প্রথমে হত্যা’ নীতিতে বিশ্বাসী এবং তাদের ধর্মীয় শিক্ষাতেও এটির ভিত্তি রয়েছে। তারা নানা দেশে অভিযান চালিয়ে শত্রু হত্যা বা অপহরণে সিদ্ধহস্ত।















