বাংলাদেশ ০২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপের ৯ দেশ

  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
  • / 48

অনলাইন ডেস্ক:

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫১ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি গাজায় আবারও সৃষ্টি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে ২২টি অবৈধ বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটি বসতি ইতিমধ্যে কোনো অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বসতি সম্প্রসারণের এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, ‘জুডিয়া ও সামারিয়ায় আমাদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ।’

ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ইতিমধ্যে ১০০টির বেশি বসতি নির্মাণ করেছে, যেখানে প্রায় পাঁচ লাখ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী বাস করছে। এই অঞ্চলে ৩০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সামরিক শাসনের অধীনে চরম মানবেতর পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছেন।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের ৯টি দেশ—বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্পেন ও সুইডেন—ইউরোপীয় কমিশনকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিতে আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসকে একটি গোপন চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ‘ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে অবৈধ বসতি স্থাপন করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। তাই এসব অঞ্চলের পণ্য ও সেবা বাণিজ্য বন্ধ করা জরুরি।’

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪ সালে ইইউ ও ইসরায়েলের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো। তবে কতটুকু বাণিজ্য অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে হয়, তা চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মতে, অবৈধ বসতি স্থাপন ও তা চালিয়ে রাখতে সহায়ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বন্ধ করতে রাষ্ট্রগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট রয়টার্সকে বলেন, ‘ইউরোপের বাণিজ্যনীতি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। বাণিজ্য আমাদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব থেকে আলাদা হতে পারে না।’

আগামী ২৩ জুন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃমূল্যায়ন ও মানবাধিকার নীতির প্রতি ইসরায়েলের আনুগত্যের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলের ইইউ মিশন আল জাজিরার অনুরোধের পরও কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপের ৯ দেশ

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫১ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি গাজায় আবারও সৃষ্টি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে ২২টি অবৈধ বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটি বসতি ইতিমধ্যে কোনো অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বসতি সম্প্রসারণের এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, ‘জুডিয়া ও সামারিয়ায় আমাদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ।’

ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ইতিমধ্যে ১০০টির বেশি বসতি নির্মাণ করেছে, যেখানে প্রায় পাঁচ লাখ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী বাস করছে। এই অঞ্চলে ৩০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সামরিক শাসনের অধীনে চরম মানবেতর পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছেন।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের ৯টি দেশ—বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্পেন ও সুইডেন—ইউরোপীয় কমিশনকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিতে আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসকে একটি গোপন চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ‘ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে অবৈধ বসতি স্থাপন করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। তাই এসব অঞ্চলের পণ্য ও সেবা বাণিজ্য বন্ধ করা জরুরি।’

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪ সালে ইইউ ও ইসরায়েলের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো। তবে কতটুকু বাণিজ্য অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে হয়, তা চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মতে, অবৈধ বসতি স্থাপন ও তা চালিয়ে রাখতে সহায়ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বন্ধ করতে রাষ্ট্রগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট রয়টার্সকে বলেন, ‘ইউরোপের বাণিজ্যনীতি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। বাণিজ্য আমাদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব থেকে আলাদা হতে পারে না।’

আগামী ২৩ জুন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃমূল্যায়ন ও মানবাধিকার নীতির প্রতি ইসরায়েলের আনুগত্যের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলের ইইউ মিশন আল জাজিরার অনুরোধের পরও কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা