বাংলাদেশ ০৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

“পাকিস্তান পাবে না ভারতের কোনো নদীর পানি” :মোদি

  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
  • / 61

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো নদীর পানি পাকিস্তান পাবে না। রাজস্থানে এক জনসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি। এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

মোদি বলেন, “প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে চরম মূল্য দিতে হবে—এ মূল্য দেবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং দেবে তাদের অর্থনীতি।”

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় ভারত থেকে উৎপন্ন তিনটি নদীর পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়, যার ওপর দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমি নির্ভরশীল। তবে গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ হামলার পর ভারত এ চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

ভারত অভিযোগ করেছে, হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্ত সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা প্রশমিত হয়।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএসকে বলেন, “সামরিক অভিযান এখনও চলছে। পরিষ্কার করে বলা হয়েছে—আরেকটি ২২ এপ্রিলের মতো ঘটনা ঘটলে জবাব আরও কঠিন হবে। সন্ত্রাসীরা যদি পাকিস্তানের মাটিতে থাকে, তাদের সেখানেই আঘাত করা হবে।”

যদিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের ফলে তাৎক্ষণিক প্রভাব না পড়লেও, বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বৈরিতায় পরিপূর্ণ। তারা এখন পর্যন্ত তিনবার যুদ্ধ করেছে, যার দুটি ছিল কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তান কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেয়—যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ, অধিকাংশ ভিসা স্থগিত, ও স্থল সীমান্ত কার্যত অচল হয়ে পড়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

“পাকিস্তান পাবে না ভারতের কোনো নদীর পানি” :মোদি

আপডেট সময় : ০৫:২৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো নদীর পানি পাকিস্তান পাবে না। রাজস্থানে এক জনসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি। এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

মোদি বলেন, “প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে চরম মূল্য দিতে হবে—এ মূল্য দেবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং দেবে তাদের অর্থনীতি।”

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় ভারত থেকে উৎপন্ন তিনটি নদীর পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়, যার ওপর দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমি নির্ভরশীল। তবে গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ হামলার পর ভারত এ চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

ভারত অভিযোগ করেছে, হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্ত সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা প্রশমিত হয়।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএসকে বলেন, “সামরিক অভিযান এখনও চলছে। পরিষ্কার করে বলা হয়েছে—আরেকটি ২২ এপ্রিলের মতো ঘটনা ঘটলে জবাব আরও কঠিন হবে। সন্ত্রাসীরা যদি পাকিস্তানের মাটিতে থাকে, তাদের সেখানেই আঘাত করা হবে।”

যদিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের ফলে তাৎক্ষণিক প্রভাব না পড়লেও, বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বৈরিতায় পরিপূর্ণ। তারা এখন পর্যন্ত তিনবার যুদ্ধ করেছে, যার দুটি ছিল কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তান কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেয়—যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ, অধিকাংশ ভিসা স্থগিত, ও স্থল সীমান্ত কার্যত অচল হয়ে পড়া।