ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতিতে ইসরায়েল: যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ
- আপডেট সময় : ০৫:৪১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
- / 57
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল—এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সও বুধবার (২১ মে) তাদের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছে।
তবে এই প্রতিবেদন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (NSC), ইসরায়েলি দূতাবাস কিংবা দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রয়টার্স জানায়, তারা এখনও এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে এক মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরায়েলি হামলার সম্ভাবনা “উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে”। সূত্রটি আরও জানায়, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এমন কোনো চুক্তি হয় যেখানে ইরান তার ইউরেনিয়াম মজুদ পুরোপুরি সরিয়ে না নেয়, তাহলে ইসরায়েলের হামলার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা মেলেনি। মার্কিন প্রশাসনের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে বলে জানায় সিএনএন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য বক্তব্য, সামরিক যোগাযোগে গোয়েন্দা নজরদারি এবং সামরিক প্রস্তুতির উপর নজর রেখেই এই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সিএনএনের বরাতে দুই মার্কিন সূত্র জানায়, ইসরায়েল সম্প্রতি বিমান হামলার জন্য গোলাবারুদ স্থানান্তর করেছে এবং একটি বড় পরিসরের বিমান মহড়া সম্পন্ন করেছে—যা বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত বহন করে।
এর আগে মঙ্গলবার, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, “আমেরিকার দাবি—ইরান যেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে—তা অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত।” তিনি নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার সফলতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তার এ বক্তব্য ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান এবং সম্ভাব্য চুক্তির ভবিষ্যত—সব কিছুই এখন অজানা অনিশ্চয়তার মুখে।















