বাংলাদেশ ০৩:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

গাজায় ক্ষুধা ও গণহত্যা চললে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অর্থ নেই: হামাস

Md Faridul Islam
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫
  • / 51

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চলমান হামলা, অবরোধ ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা একেবারেই অর্থহীন।

৬ মে (মঙ্গলবার) বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য এবং গাজার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. বাসেম নাঈম বলেন, “গাজায় ইসরাইল যে ক্ষুধার যুদ্ধ এবং গণহত্যা চালাচ্ছে, তা বন্ধ না হলে যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিরর্থক। যারা মানবিক বিরতির কথা বলছেন, তাদের আগে এই নৃশংসতা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন উচিত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে থামানো। “তাদের এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে বাধ্য করুন,” জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ইসরাইল গাজা জুড়ে সামরিক অভিযান আরও বিস্তারের পরিকল্পনা করছে। ইসরাইলি এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, অভিযানে গাজার ভৌগলিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি ‘অধিকাংশ মানুষকে স্থানচ্যুত’ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংস অনিবার্য হয়ে উঠবে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারোও এই পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’র ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, যখন লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়েছিলেন।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২,৪৫৯ জন, যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও অনেক। ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৫২,৫৬৭ ছাড়িয়েছে।

মানবিক বিপর্যয়ের মুখে গাজায় এখন জীবন মানে শুধুই লড়াই, ক্ষুধার বিরুদ্ধে, বোমার বিরুদ্ধে, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাজায় ক্ষুধা ও গণহত্যা চললে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অর্থ নেই: হামাস

আপডেট সময় : ০১:৩০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চলমান হামলা, অবরোধ ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা একেবারেই অর্থহীন।

৬ মে (মঙ্গলবার) বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য এবং গাজার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. বাসেম নাঈম বলেন, “গাজায় ইসরাইল যে ক্ষুধার যুদ্ধ এবং গণহত্যা চালাচ্ছে, তা বন্ধ না হলে যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিরর্থক। যারা মানবিক বিরতির কথা বলছেন, তাদের আগে এই নৃশংসতা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন উচিত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে থামানো। “তাদের এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে বাধ্য করুন,” জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ইসরাইল গাজা জুড়ে সামরিক অভিযান আরও বিস্তারের পরিকল্পনা করছে। ইসরাইলি এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, অভিযানে গাজার ভৌগলিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি ‘অধিকাংশ মানুষকে স্থানচ্যুত’ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংস অনিবার্য হয়ে উঠবে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারোও এই পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’র ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, যখন লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়েছিলেন।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২,৪৫৯ জন, যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও অনেক। ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৫২,৫৬৭ ছাড়িয়েছে।

মানবিক বিপর্যয়ের মুখে গাজায় এখন জীবন মানে শুধুই লড়াই, ক্ষুধার বিরুদ্ধে, বোমার বিরুদ্ধে, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে।