বাংলাদেশ ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ-পাকিস্তান গুজব: বিকৃত ছবি ও ভুয়া দাবি নিয়ে সমালোচনার ঝড়

Md Faridul Islam
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • / 50

 

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক:

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আজতক বাংলা’ সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের ছবি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের পোশাককে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পোশাক বলে প্রচার করে দেশটির গণমাধ্যমটি।

‘আজতক বাংলা’র ৩ মে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যাঁরা করমর্দন করছেন, তারা সেনাবাহিনীর সদস্য— তবে প্রতিবেদক ছবিতে থাকা পোশাক দেখে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, “তাদের পোশাক দেখে মনে হচ্ছে না তারা বাংলাদেশের সেনা। তাহলে কি তারা অন্য কোনো দেশের সেনা? পাকিস্তানি?”

এই বিভ্রান্তিকর দাবি খণ্ডন করেছে স্বীকৃত ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা রিউমর স্ক্যানার। সংস্থাটি জানায়, ছবিতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিরা কোনো সেনা সদস্য নন, বরং তাঁরা বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন শাখার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ছবিটি ২৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহ ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তোলা হয়েছে।

ছবিতে ড. ইউনূসের পাশে যাঁদের দেখা গেছে, তাঁদের একজন হলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ, যিনি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় পদক গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে পুলিশের সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এনামুল হক সাগর গণমাধ্যমকে জানান, “ছবিতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁরা সবাই বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য। তাঁদের পরনে থাকা পোশাকটি পুলিশের উৎসবকালীন অফিসিয়াল পোশাক, যেটি সামার টিউনিক নামে পরিচিত।”

ফলে আজতক বাংলার দাবি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রমাণিত হয়েছে। রিউমর স্ক্যানার তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, “একটি প্রামাণ্য ও সরকারি অনুষ্ঠান থেকে তোলা ছবিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে মিথ্যা রাজনৈতিক যোগসূত্র স্থাপনের অপচেষ্টা করা হয়েছে।”

ভারতীয় গণমাধ্যমের এমন গর্হিত ও অবাঞ্ছিত প্রচার কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। অনেকেই বলছেন, দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম হিসেবে ভারতের জনপ্রিয় চ্যানেলের এমন আচরণ গণমাধ্যমের নীতিবোধ ও পেশাগত মানদণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এই ঘটনায় বাংলাদেশের সচেতন মহলে নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। আঞ্চলিক শান্তি ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ-পাকিস্তান গুজব: বিকৃত ছবি ও ভুয়া দাবি নিয়ে সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় : ১০:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

 

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক:

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আজতক বাংলা’ সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের ছবি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের পোশাককে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পোশাক বলে প্রচার করে দেশটির গণমাধ্যমটি।

‘আজতক বাংলা’র ৩ মে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যাঁরা করমর্দন করছেন, তারা সেনাবাহিনীর সদস্য— তবে প্রতিবেদক ছবিতে থাকা পোশাক দেখে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, “তাদের পোশাক দেখে মনে হচ্ছে না তারা বাংলাদেশের সেনা। তাহলে কি তারা অন্য কোনো দেশের সেনা? পাকিস্তানি?”

এই বিভ্রান্তিকর দাবি খণ্ডন করেছে স্বীকৃত ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা রিউমর স্ক্যানার। সংস্থাটি জানায়, ছবিতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিরা কোনো সেনা সদস্য নন, বরং তাঁরা বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন শাখার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ছবিটি ২৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহ ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তোলা হয়েছে।

ছবিতে ড. ইউনূসের পাশে যাঁদের দেখা গেছে, তাঁদের একজন হলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ, যিনি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় পদক গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে পুলিশের সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এনামুল হক সাগর গণমাধ্যমকে জানান, “ছবিতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁরা সবাই বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য। তাঁদের পরনে থাকা পোশাকটি পুলিশের উৎসবকালীন অফিসিয়াল পোশাক, যেটি সামার টিউনিক নামে পরিচিত।”

ফলে আজতক বাংলার দাবি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রমাণিত হয়েছে। রিউমর স্ক্যানার তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, “একটি প্রামাণ্য ও সরকারি অনুষ্ঠান থেকে তোলা ছবিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে মিথ্যা রাজনৈতিক যোগসূত্র স্থাপনের অপচেষ্টা করা হয়েছে।”

ভারতীয় গণমাধ্যমের এমন গর্হিত ও অবাঞ্ছিত প্রচার কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। অনেকেই বলছেন, দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম হিসেবে ভারতের জনপ্রিয় চ্যানেলের এমন আচরণ গণমাধ্যমের নীতিবোধ ও পেশাগত মানদণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এই ঘটনায় বাংলাদেশের সচেতন মহলে নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। আঞ্চলিক শান্তি ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।