১৯ দিনের কারাভোগের পর মুক্ত মেঘনা আলম
- আপডেট সময় : ০৭:১৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
- / 58
বিনোদন ডেস্ক:
আলোচিত মডেল ও ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ ২০২০’-এর বিজয়ী মেঘনা আলম অবশেষে ১৯ দিনের কারাভোগের পর কারামুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ নারী বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এই মডেল আপাতত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে আসতে সক্ষম হলেন।
মেঘনা আলমকে গত ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। আটকের ঠিক আগে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, ‘পুলিশ পরিচয়ধারীরা’ তার বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। লাইভটি সরাসরি চলাকালে পুলিশ তাকে আটক করলে সেটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
পরদিন বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ক্ষতির চেষ্টার অভিযোগ এনে ধানমন্ডি থানায় একটি প্রতারণার মামলায় ১৭ এপ্রিল তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মেঘনা আলম বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে পরে তাদের ‘প্রেমের ফাঁদে ফেলে’ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে প্রতারিত করতেন। মামলার আরেক আসামি, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেওয়ান সমির বর্তমানে রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।
মেঘনা আলম ‘মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও পরিচিত। মডেলিং দুনিয়ার বাইরে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার সরব উপস্থিতি এবং বিতর্কিত মন্তব্য আগে থেকেই আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও গ্রেফতারের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনাও উঠেছে। মানবাধিকারকর্মীরা গ্রেফতার প্রক্রিয়া, বিশেষ ক্ষমতা আইনের প্রয়োগ এবং জামিনের সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
এখন জামিনে মুক্ত হলেও, মেঘনা আলমের বিরুদ্ধে মামলা চলমান এবং তার ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
















