বাংলাদেশ ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

কুড়িগ্রামেই চাই ‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ জেনারেল হাসপাতাল’

Md Faridul Islam
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
  • / 124

একটি সময় ছিল যখন কুড়িগ্রামের মানুষ লবণের জন্য রোদে শুকনো মরা গরুর খুর চিবোতো। ৫০-এর দশকের সেই গল্প আমরা জেনেছি সৈয়দ শামসুল হকের কলমে। বাংলা সাহিত্যের রত্নসম লেখক যিনি নিজ জন্মভূমির মানুষের অনাহার, বঞ্চনা আর অবহেলার কাহিনি তুলে ধরেছিলেন ব্যথাতুর কণ্ঠে। সেই যে কুড়িগ্রামের বুকভাঙা দুঃখের শুরু, আজ ষাট-সত্তর বছর পরও গল্পটা খুব একটা বদলায়নি। এখনো কোনো না কোনো জাতীয় পত্রিকায় হেডলাইন হয় “কুড়িগ্রামে রমজানে একমুঠো কাঁচা চালেই ইফতার।”

১৯৭৪ সালের সেই দুর্ভিক্ষে বাসন্তীর জাল পরে দাঁড়িয়ে থাকা ছবিটা কেবল এই দেশেরই নয়, পুরো মানবজাতির বিবেক নাড়া দিয়েছিল। বাসন্তীর জাল পরা ছবির কারণে পুরো বাংলাদেশের মুখে খাবার জুটেছিল ১৯৭৪ সালে কিন্তু বাসন্তীরা হয়েছিল বৈষম্যের শিকার।

সেই বাসন্তীরা আজও আমাদের চারপাশে, তারা আর হয়তো জাল পরে না, তবে দারিদ্র্যের জালে বন্দি হয়ে আছে ঠিকই। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কোনটা তাদের নাগালের? তবুও তারা বেঁচে আছে। আশা করে, স্বপ্ন দেখে। আর সেই স্বপ্নের নাম আজ-‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ জেনারেল হাসপাতাল’।

কেন কুড়িগ্রামে চাই এই হাসপাতাল?

প্রথম ও প্রধান কারণ, মানবিকতা। রাষ্ট্রের প্রান্তিক জনগণের পাশে দাঁড়ানোর দায়। কুড়িগ্রাম, যে জেলায় এখনো ‘মঙ্গা’ শব্দটা বাস্তব, যেখানে শীত মানে মৃত্যুর অপেক্ষা, যেখানে জন্ম আর মৃত্যু দুই-ই অযত্নের ছায়ায় ঘটে, সে জায়গায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল স্থাপন করা মানে লাখো লাখো মানুষের জীবনে নতুন আলোর সূচনা। এ আলো শুধু কুড়িগ্রামেই নয়, ছড়িয়ে যাবে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রৌমারী, রাজিবপুর, চিলমারী, এমনকি শেরপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ হয়ে ভুটান-ভারতের গর্ভেও।

কুড়িগ্রাম জেলার অবস্থান ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত কৌশলগত। এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা বেষ্টিত অঞ্চলটি যেমন একসময়ের বন্যা কবলিত দুঃখিনী জনপদ ছিল, এখন সেই নদীগুলোই হতে পারে সম্ভাবনার প্রবাহ। এই জেলা থেকে লালমনিরহাট বিমানবন্দর, রংপুর মেডিকেল কলেজ, গাইবান্ধা, এমনকি সীমান্তবর্তী ভারত ও ভুটানের সঙ্গেও নৌ, সড়ক ও আকাশপথে উন্নত যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব।

এখানে রয়েছে বিশাল পরিমাণ নিষ্কণ্টক জমি। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের কল্যাণ মৌজা এবং মোগলবাসা ইউনিয়নের নিধিরাম মৌজার মাঝে এবং উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই পাঁচপীর মৌজার কিয়দংশ নিয়ে গঠিত নালিয়ার দোলায় প্রায় ২০০০ (দুই হাজার) একর নিস্কন্টক জমি রয়েছে।

যার একটি অংশে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। এই জমির আরও একটি অংশ আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণে ব্যবহার হলে সেটি হবে এক অভিনব ‘স্বাস্থ্য-শিক্ষা হাব’। দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে একই সঙ্গে উন্নত হাসপাতাল, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল কলেজের সম্ভাব্য অবস্থান পাওয়া যায়।

যে যুক্তিগুলো ভুলভ্রান্ত ও আত্মঘাতী

উন্নয়ন যদি কেবল শহর-কেন্দ্রিক হয়, তবে প্রান্তিক জনপদের হৃদয়ে বঞ্চনার ক্ষত সৃষ্টি হবেই। আমরা জানি, কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়ার টেপামধুপুর, নীলফামারীসহ কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেছেন।

অনেকে বলছেন-হাসপাতালটি রংপুরেই হোক। কিন্তু সেখানে ইতিমধ্যে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আছে, যার সম্প্রসারণ চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য। রংপুরে অসংখ্য ক্লিনিক, প্রাইভেট হাসপাতাল ও আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রপাতি যুক্ত বেসরকারি চেম্বার রয়েছে। সেখানে নতুন হাসপাতাল হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে না, বরং পুরনো কাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রোগী কমে যাবে, প্রযুক্তি অব্যবহৃত থাকবে, যানজট বাড়বে। একটি সুস্থ পরিকল্পনা মানে রোগীর ভারসাম্য রক্ষা করা-not centralizing everything.

তুলনায় আসা যাক নীলফামারী জেলার প্রসঙ্গে। ২০১৮ নীলফামারী তে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে মেডিকেল কলেজ চালু আছে, চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষও উপকৃত হচ্ছেন। নীলফামারীর উপশহর, সৈয়দপুরও রয়েছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায়, যার মাধ্যমে দ্রুত যাতায়াত সম্ভব।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামে নেই কোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ, নেই বিশালাকার কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল। এখানকার মানুষের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান যেখানে তারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচার সুযোগ পাবে।

প্রতিটি জেলার একটি করে ভালো হাসপাতাল থাকা উচিত। এটাই রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য। নীলফামারী, দিনাজপুর ইতোমধ্যেই পেয়েছে, আর কুড়িগ্রাম এখনও শুনছে শুধুই আশ্বাস। নীলফামারী থেকে কুড়িগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার। চিকিৎসার জন্য একজন রোগীকে এই পথ পাড়ি দিতে হলে তাকে হয়তো নদী পেরোতে হবে, চর থেকে নৌকা করে আসতে হবে, তারপর ভাঙা রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হবে চিকিৎসকের কাছে।

রাজিবপুর, রৌমারী বা চিলমারী কিংবা উলিপুরের কোনো চরাঞ্চলে বসবাসকারী একজন বৃদ্ধের জন্য এটি মৃত্যুর চেয়েও কঠিন এক যাত্রা। তিস্তার চর থেকে কেউ এসে চিকিৎসা নিতে চায় কিন্তু রংপুর পৌঁছানোর আগেই হয়তো প্রাণ ত্যাগ করতে হয়। কুড়িগ্রামের শিশুদের মৃত্যুর হার এখনো উদ্বেগজনক। মা-মৃত্যু, নবজাতক মৃত্যু, সবকিছুতেই অব্যবস্থাপনার ছাপ। অথচ এই সব অনিয়ম শুধুমাত্র একটি উন্নত মেডিকেল হাসপাতাল দিয়েই অনেকটা হ্রাস পেতে পারে।

আমরা দেখেছি, নীলফামারী ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ফলে সেখানে শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশ হয়েছে, ব্যবসায়িক সুযোগ বেড়েছে, স্বাস্থ্যসেবা দ্রুতগামী হয়েছে। অথচ, একবিংশ শতাব্দীর ২৫তম বছরে এসেও কুড়িগ্রামে এখনও একমাত্র হাসপাতালটি জেলা সদরেই সীমাবদ্ধ, যেখানে আইসিইউ নেই, ক্যান্সার বা হৃদরোগের চিকিৎসা নেই, নেই শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়ার্ড। বড় রোগ হলে রেফারই শেষ কথা।

এই প্রেক্ষাপটে, রংপুর, দিনাজপুর বা নীলফামারীতে আরেকটি হাসপাতাল গড়ার সিদ্ধান্ত হবে অতিরিক্ত ভারী বোঝা এক ঠাসবুনোট শহরের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া।

অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের মতো সীমান্ত, চর ও নদীভাঙনের জেলা, যার মানুষ ‘বাঁচতে’ চায়, তাদের হাতে একটি হাসপাতাল তুলে দিলে তা শুধু চিকিৎসার দরজা নয়, হবে বেঁচে থাকার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের যৌথ পরিকল্পনায় কুড়িগ্রামে স্থাপিত হতে যাচ্ছে জিটুজি ভিত্তিক ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’। এই উদ্যোগের অবকাঠামোগত সম্ভাবনা ও আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক গত ২৮ মার্চ ২০২৪ তারিখে কুড়িগ্রামে সফর করে গিয়েছেন। তিনি জেলা শহরের পূর্ব পাশে, ধরলা সেতুর পূর্বপ্রান্তে কুড়িগ্রাম-সোনাহাট স্থলবন্দর মহাসড়কের পাশেই নির্ধারিত ১৩৩ দশমিক ৯২ একর ভূমি ঘুরে দেখেন এবং উচ্ছ্বাসভরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এখন কুড়িগ্রামে যদি আন্তর্জাতিক হাসপাতাল গড়ে ওঠে, তবে ভুটানের নাগরিকদের জন্যও তা হবে আশীর্বাদ।

ভূটানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে তাকালে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চোখে পড়ে, ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী সারা ভুটানে মাত্র ৩২টি হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে জটিল রোগের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে চিকিৎসার জন্য তাদের নির্ভর করতে হয় বিদেশের উপর। ভুটানে এখনও কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে দেশটির বহু শিক্ষার্থী বাংলাদেশে, বিশেষ করে- রংপুর মেডিকেল কলেজ, কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ এবং প্রাইম মেডিকেল কলেজ, রংপুরে এসে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণ করছে।

পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের দিল্লি, কাশ্মীর, কলকাতা, আসাম, হায়দরাবাদ এবং পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল ছাড়াও ফিলিস্তিন, থাইল্যান্ড মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী বাংলাদেশে শিকিৎসা শিক্ষা নিতে আসছে। হাসপাতলটিকে ভবিষ্যতে মেডিকেল কলেজে রুপান্তর করলে সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর অভাব হবে না। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজ দেশের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ পাবে।

শুধু ভুটান নয়, ভারত, নেপাল, এমনকি মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড থেকেও রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসতে পারবে। তৈরি হবে আন্তর্জাতিক মেডিকেল ট্যুরিজমের এক নতুন দিগন্ত। কুড়িগ্রাম হয়ে উঠবে দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, যেখানে চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের এক সেতুবন্ধ তৈরি হবে।

একটি হাসপাতাল, একটি জাতির দায়মুক্তি

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজিবপুর-রৌমারী ছিল মুক্তাঞ্চল। কুড়িগ্রাম ছিল সাহসের, ত্যাগের, আর দেশের প্রতি প্রেমের প্রতীক। কিন্ত আজও সেই কুড়িগ্রামের বুক চিরে জন্ম নেয় হাজারো বাসন্তী, যারা শুধু খেতে চায়, বাঁচতে চায়, একটু চিকিৎসা চায়।

এই হাসপাতাল যদি কুড়িগ্রামে হয়, তাহলে তা হবে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং এ দেশের রাষ্ট্রীয় দায়মুক্তির প্রতীক। এতদিন যারা বঞ্চিত ছিল, তাদের কাছে রাষ্ট্র এসে বলবে, “তোমাদের কথা আমরা ভুলিনি।”

‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ জেনারেল হাসপাতাল’ যদি কুড়িগ্রামে স্থাপিত হয়, তবে তা কেবল এক উন্নয়ন প্রকল্পই হবে না, এটি হবে এক নিঃশব্দ বিপ্লব। এক সূর্যোদয়, যেখানে অন্ধকারে আটকে থাকা একটি অঞ্চল নতুন করে জীবন পাবে।

আমরা চাই, যেন আর কোনো শিশুর মৃত্যু না হয় শুধুমাত্র সময়মতো স্যালাইন না পাওয়ায়। আমরা চাই, যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয় শুধু চিকিৎসকের অভাবে। আমরা চাই, যেন বাসন্তীদের আর জাল পরে দাঁড়াতে না হয়।

তাই আমরা বলছি, হাসপাতালটি কুড়িগ্রামেই হোক। এটি সময়ের দাবি, ইতিহাসের দায়, আর লাখো মানুষের আর্তনাদ।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “কুড়িগ্রামেই চাই ‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ জেনারেল হাসপাতাল’

  1. ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ছবি আজও আমাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। বাসন্তীরা এখনও দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করছে, কিন্তু তাদের স্বপ্ন এখন নতুন আলোর দিকে ধাবিত। চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ জেনারেল হাসপাতাল কুড়িগ্রামে স্থাপনের মাধ্যমে লাখো মানুষের জীবনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই উন্নয়ন প্রক্রিয়া যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি শুধু কুড়িগ্রামেরই নয়, সমগ্র উত্তরাঞ্চলের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে। এই হাসপাতালটি কীভাবে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে? Given the growing economic instability due to the events in the Middle East, many businesses are looking for guaranteed fast and secure payment solutions. Recently, I came across LiberSave (LS) — they promise instant bank transfers with no chargebacks or card verification. It says integration takes 5 minutes and is already being tested in Israel and the UAE. Has anyone actually checked how this works in crisis conditions?

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কুড়িগ্রামেই চাই ‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ জেনারেল হাসপাতাল’

আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

একটি সময় ছিল যখন কুড়িগ্রামের মানুষ লবণের জন্য রোদে শুকনো মরা গরুর খুর চিবোতো। ৫০-এর দশকের সেই গল্প আমরা জেনেছি সৈয়দ শামসুল হকের কলমে। বাংলা সাহিত্যের রত্নসম লেখক যিনি নিজ জন্মভূমির মানুষের অনাহার, বঞ্চনা আর অবহেলার কাহিনি তুলে ধরেছিলেন ব্যথাতুর কণ্ঠে। সেই যে কুড়িগ্রামের বুকভাঙা দুঃখের শুরু, আজ ষাট-সত্তর বছর পরও গল্পটা খুব একটা বদলায়নি। এখনো কোনো না কোনো জাতীয় পত্রিকায় হেডলাইন হয় “কুড়িগ্রামে রমজানে একমুঠো কাঁচা চালেই ইফতার।”

১৯৭৪ সালের সেই দুর্ভিক্ষে বাসন্তীর জাল পরে দাঁড়িয়ে থাকা ছবিটা কেবল এই দেশেরই নয়, পুরো মানবজাতির বিবেক নাড়া দিয়েছিল। বাসন্তীর জাল পরা ছবির কারণে পুরো বাংলাদেশের মুখে খাবার জুটেছিল ১৯৭৪ সালে কিন্তু বাসন্তীরা হয়েছিল বৈষম্যের শিকার।

সেই বাসন্তীরা আজও আমাদের চারপাশে, তারা আর হয়তো জাল পরে না, তবে দারিদ্র্যের জালে বন্দি হয়ে আছে ঠিকই। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কোনটা তাদের নাগালের? তবুও তারা বেঁচে আছে। আশা করে, স্বপ্ন দেখে। আর সেই স্বপ্নের নাম আজ-‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ জেনারেল হাসপাতাল’।

কেন কুড়িগ্রামে চাই এই হাসপাতাল?

প্রথম ও প্রধান কারণ, মানবিকতা। রাষ্ট্রের প্রান্তিক জনগণের পাশে দাঁড়ানোর দায়। কুড়িগ্রাম, যে জেলায় এখনো ‘মঙ্গা’ শব্দটা বাস্তব, যেখানে শীত মানে মৃত্যুর অপেক্ষা, যেখানে জন্ম আর মৃত্যু দুই-ই অযত্নের ছায়ায় ঘটে, সে জায়গায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল স্থাপন করা মানে লাখো লাখো মানুষের জীবনে নতুন আলোর সূচনা। এ আলো শুধু কুড়িগ্রামেই নয়, ছড়িয়ে যাবে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রৌমারী, রাজিবপুর, চিলমারী, এমনকি শেরপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ হয়ে ভুটান-ভারতের গর্ভেও।

কুড়িগ্রাম জেলার অবস্থান ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত কৌশলগত। এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা বেষ্টিত অঞ্চলটি যেমন একসময়ের বন্যা কবলিত দুঃখিনী জনপদ ছিল, এখন সেই নদীগুলোই হতে পারে সম্ভাবনার প্রবাহ। এই জেলা থেকে লালমনিরহাট বিমানবন্দর, রংপুর মেডিকেল কলেজ, গাইবান্ধা, এমনকি সীমান্তবর্তী ভারত ও ভুটানের সঙ্গেও নৌ, সড়ক ও আকাশপথে উন্নত যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব।

এখানে রয়েছে বিশাল পরিমাণ নিষ্কণ্টক জমি। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের কল্যাণ মৌজা এবং মোগলবাসা ইউনিয়নের নিধিরাম মৌজার মাঝে এবং উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই পাঁচপীর মৌজার কিয়দংশ নিয়ে গঠিত নালিয়ার দোলায় প্রায় ২০০০ (দুই হাজার) একর নিস্কন্টক জমি রয়েছে।

যার একটি অংশে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। এই জমির আরও একটি অংশ আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণে ব্যবহার হলে সেটি হবে এক অভিনব ‘স্বাস্থ্য-শিক্ষা হাব’। দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে একই সঙ্গে উন্নত হাসপাতাল, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল কলেজের সম্ভাব্য অবস্থান পাওয়া যায়।

যে যুক্তিগুলো ভুলভ্রান্ত ও আত্মঘাতী

উন্নয়ন যদি কেবল শহর-কেন্দ্রিক হয়, তবে প্রান্তিক জনপদের হৃদয়ে বঞ্চনার ক্ষত সৃষ্টি হবেই। আমরা জানি, কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়ার টেপামধুপুর, নীলফামারীসহ কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেছেন।

অনেকে বলছেন-হাসপাতালটি রংপুরেই হোক। কিন্তু সেখানে ইতিমধ্যে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আছে, যার সম্প্রসারণ চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য। রংপুরে অসংখ্য ক্লিনিক, প্রাইভেট হাসপাতাল ও আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রপাতি যুক্ত বেসরকারি চেম্বার রয়েছে। সেখানে নতুন হাসপাতাল হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে না, বরং পুরনো কাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রোগী কমে যাবে, প্রযুক্তি অব্যবহৃত থাকবে, যানজট বাড়বে। একটি সুস্থ পরিকল্পনা মানে রোগীর ভারসাম্য রক্ষা করা-not centralizing everything.

তুলনায় আসা যাক নীলফামারী জেলার প্রসঙ্গে। ২০১৮ নীলফামারী তে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে মেডিকেল কলেজ চালু আছে, চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষও উপকৃত হচ্ছেন। নীলফামারীর উপশহর, সৈয়দপুরও রয়েছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায়, যার মাধ্যমে দ্রুত যাতায়াত সম্ভব।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামে নেই কোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ, নেই বিশালাকার কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল। এখানকার মানুষের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান যেখানে তারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচার সুযোগ পাবে।

প্রতিটি জেলার একটি করে ভালো হাসপাতাল থাকা উচিত। এটাই রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য। নীলফামারী, দিনাজপুর ইতোমধ্যেই পেয়েছে, আর কুড়িগ্রাম এখনও শুনছে শুধুই আশ্বাস। নীলফামারী থেকে কুড়িগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার। চিকিৎসার জন্য একজন রোগীকে এই পথ পাড়ি দিতে হলে তাকে হয়তো নদী পেরোতে হবে, চর থেকে নৌকা করে আসতে হবে, তারপর ভাঙা রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হবে চিকিৎসকের কাছে।

রাজিবপুর, রৌমারী বা চিলমারী কিংবা উলিপুরের কোনো চরাঞ্চলে বসবাসকারী একজন বৃদ্ধের জন্য এটি মৃত্যুর চেয়েও কঠিন এক যাত্রা। তিস্তার চর থেকে কেউ এসে চিকিৎসা নিতে চায় কিন্তু রংপুর পৌঁছানোর আগেই হয়তো প্রাণ ত্যাগ করতে হয়। কুড়িগ্রামের শিশুদের মৃত্যুর হার এখনো উদ্বেগজনক। মা-মৃত্যু, নবজাতক মৃত্যু, সবকিছুতেই অব্যবস্থাপনার ছাপ। অথচ এই সব অনিয়ম শুধুমাত্র একটি উন্নত মেডিকেল হাসপাতাল দিয়েই অনেকটা হ্রাস পেতে পারে।

আমরা দেখেছি, নীলফামারী ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ফলে সেখানে শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশ হয়েছে, ব্যবসায়িক সুযোগ বেড়েছে, স্বাস্থ্যসেবা দ্রুতগামী হয়েছে। অথচ, একবিংশ শতাব্দীর ২৫তম বছরে এসেও কুড়িগ্রামে এখনও একমাত্র হাসপাতালটি জেলা সদরেই সীমাবদ্ধ, যেখানে আইসিইউ নেই, ক্যান্সার বা হৃদরোগের চিকিৎসা নেই, নেই শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়ার্ড। বড় রোগ হলে রেফারই শেষ কথা।

এই প্রেক্ষাপটে, রংপুর, দিনাজপুর বা নীলফামারীতে আরেকটি হাসপাতাল গড়ার সিদ্ধান্ত হবে অতিরিক্ত ভারী বোঝা এক ঠাসবুনোট শহরের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া।

অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের মতো সীমান্ত, চর ও নদীভাঙনের জেলা, যার মানুষ ‘বাঁচতে’ চায়, তাদের হাতে একটি হাসপাতাল তুলে দিলে তা শুধু চিকিৎসার দরজা নয়, হবে বেঁচে থাকার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের যৌথ পরিকল্পনায় কুড়িগ্রামে স্থাপিত হতে যাচ্ছে জিটুজি ভিত্তিক ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’। এই উদ্যোগের অবকাঠামোগত সম্ভাবনা ও আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক গত ২৮ মার্চ ২০২৪ তারিখে কুড়িগ্রামে সফর করে গিয়েছেন। তিনি জেলা শহরের পূর্ব পাশে, ধরলা সেতুর পূর্বপ্রান্তে কুড়িগ্রাম-সোনাহাট স্থলবন্দর মহাসড়কের পাশেই নির্ধারিত ১৩৩ দশমিক ৯২ একর ভূমি ঘুরে দেখেন এবং উচ্ছ্বাসভরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এখন কুড়িগ্রামে যদি আন্তর্জাতিক হাসপাতাল গড়ে ওঠে, তবে ভুটানের নাগরিকদের জন্যও তা হবে আশীর্বাদ।

ভূটানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে তাকালে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চোখে পড়ে, ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী সারা ভুটানে মাত্র ৩২টি হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে জটিল রোগের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে চিকিৎসার জন্য তাদের নির্ভর করতে হয় বিদেশের উপর। ভুটানে এখনও কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে দেশটির বহু শিক্ষার্থী বাংলাদেশে, বিশেষ করে- রংপুর মেডিকেল কলেজ, কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ এবং প্রাইম মেডিকেল কলেজ, রংপুরে এসে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণ করছে।

পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের দিল্লি, কাশ্মীর, কলকাতা, আসাম, হায়দরাবাদ এবং পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল ছাড়াও ফিলিস্তিন, থাইল্যান্ড মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী বাংলাদেশে শিকিৎসা শিক্ষা নিতে আসছে। হাসপাতলটিকে ভবিষ্যতে মেডিকেল কলেজে রুপান্তর করলে সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর অভাব হবে না। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজ দেশের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ পাবে।

শুধু ভুটান নয়, ভারত, নেপাল, এমনকি মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড থেকেও রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসতে পারবে। তৈরি হবে আন্তর্জাতিক মেডিকেল ট্যুরিজমের এক নতুন দিগন্ত। কুড়িগ্রাম হয়ে উঠবে দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, যেখানে চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের এক সেতুবন্ধ তৈরি হবে।

একটি হাসপাতাল, একটি জাতির দায়মুক্তি

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজিবপুর-রৌমারী ছিল মুক্তাঞ্চল। কুড়িগ্রাম ছিল সাহসের, ত্যাগের, আর দেশের প্রতি প্রেমের প্রতীক। কিন্ত আজও সেই কুড়িগ্রামের বুক চিরে জন্ম নেয় হাজারো বাসন্তী, যারা শুধু খেতে চায়, বাঁচতে চায়, একটু চিকিৎসা চায়।

এই হাসপাতাল যদি কুড়িগ্রামে হয়, তাহলে তা হবে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং এ দেশের রাষ্ট্রীয় দায়মুক্তির প্রতীক। এতদিন যারা বঞ্চিত ছিল, তাদের কাছে রাষ্ট্র এসে বলবে, “তোমাদের কথা আমরা ভুলিনি।”

‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ জেনারেল হাসপাতাল’ যদি কুড়িগ্রামে স্থাপিত হয়, তবে তা কেবল এক উন্নয়ন প্রকল্পই হবে না, এটি হবে এক নিঃশব্দ বিপ্লব। এক সূর্যোদয়, যেখানে অন্ধকারে আটকে থাকা একটি অঞ্চল নতুন করে জীবন পাবে।

আমরা চাই, যেন আর কোনো শিশুর মৃত্যু না হয় শুধুমাত্র সময়মতো স্যালাইন না পাওয়ায়। আমরা চাই, যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয় শুধু চিকিৎসকের অভাবে। আমরা চাই, যেন বাসন্তীদের আর জাল পরে দাঁড়াতে না হয়।

তাই আমরা বলছি, হাসপাতালটি কুড়িগ্রামেই হোক। এটি সময়ের দাবি, ইতিহাসের দায়, আর লাখো মানুষের আর্তনাদ।