বাংলাদেশ ০৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

চিকিৎসা গবেষণায় তরুণ মেডিকেল ল্যাব সায়েন্টিস্ট সামিউল বাশির

  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • / 100

চিকিৎসা গবেষণায় সামিউল বাশির এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় নাম। তাঁর দীর্ঘ ১৫ বছরের মেডিকেল ল্যাবরেটরি অভিজ্ঞতা, অদম্য প্রচেষ্টা এবং নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার মাধ্যমে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে সৃষ্টি করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। জাতীয় পর্যায় ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে জায়গা করে নেওয়া এই তরুণ বিজ্ঞানীর নাম আজ সগর্বে উচ্চারিত হয় দেশ-বিদেশের চিকিৎসা ও গবেষণা অঙ্গনে।

সামিউল বাশিরের গবেষণাগুলোর মূল ক্ষেত্র জুড়ে রয়েছে ডায়াবেটিস, ডেঙ্গু, টেলিমেডিসিন, ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, এইচএলএ-বি২৭ এবং টিউবারকুলোসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বিশ্লেষণ, বায়োমার্কার চিহ্নিতকরণ এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি। ইতোমধ্যে তাঁর ১৮টি গবেষণাপত্র গুগল স্কলার ইনডেক্সড আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে শিক্ষকতা করছেন। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “সামিউল একজন নিষ্ঠাবান গবেষক—কুড়িগ্রাম এইচটি তাঁর মতো শিক্ষক পেয়ে গর্বিত।” ঢাকা ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ওমর আলী সরকার বলেন, “আমি যখন অধ্যক্ষ ছিলাম, তখন বাশির আমার অধীনে বিএসসি করত। তখন থেকেই তার গবেষণার প্রতি একনিষ্ঠ আগ্রহ লক্ষ্য করেছিলাম।” আরেক সহকর্মী ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, “সে ছিল দক্ষ, বিশ্বস্ত ও গবেষণানিবেদিত এক সহকর্মী।”

ব্যক্তিজীবনে সামিউল বাশির অত্যন্ত পরিশ্রমী ও নিঃস্বার্থ একজন গবেষক। তাঁর স্ত্রী আফরোজা খাতুন বলেন, “ল্যাব, ল্যাপটপ, বই আর জার্নালই যেন তার জীবন। উপার্জনের পুরোটা সে গবেষণার পিছনেই ব্যয় করে।”

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তিনি অনন্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ঢাকা ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি থেকে বিএসসি ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিন সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান UKAP (ইউক্যাপ) থেকে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন বায়োমেডিকেল সায়েন্স অর্জন করেন। এছাড়াও, তিনি আমেরিকান সোসাইটি ফর ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি (ASCP) থেকে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল ল্যাবরেটরি সাইন্টিস্ট (MLS) এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন হেলথ কেয়ার প্রোফেশনস (ICHP) থেকে ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি সাইন্টিস্ট (CLS) হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তাঁর গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বের বিভিন্ন সম্মেলন থেকে আমন্ত্রণ পান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অন ইমিউনোলজি, ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অন মাইক্রোবায়োলজি এবং সেভেন্থ ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অন অ্যাপ্লায়েড মাইক্রোবায়োলজি।

সামিউল বাশিরের চিকিৎসা বিজ্ঞানে অভিজ্ঞতা, গবেষণাগারভিত্তিক প্রকাশনা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক অনন্য সম্পদে পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে তিনি গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি সহজলভ্য ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন, যা সারা বিশ্বের মানুষের উপকারে আসবে।

এই তরুণ গবেষকের সাফল্য আমাদের দেশের চিকিৎসা খাতের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চিকিৎসা গবেষণায় তরুণ মেডিকেল ল্যাব সায়েন্টিস্ট সামিউল বাশির

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

চিকিৎসা গবেষণায় সামিউল বাশির এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় নাম। তাঁর দীর্ঘ ১৫ বছরের মেডিকেল ল্যাবরেটরি অভিজ্ঞতা, অদম্য প্রচেষ্টা এবং নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার মাধ্যমে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে সৃষ্টি করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। জাতীয় পর্যায় ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে জায়গা করে নেওয়া এই তরুণ বিজ্ঞানীর নাম আজ সগর্বে উচ্চারিত হয় দেশ-বিদেশের চিকিৎসা ও গবেষণা অঙ্গনে।

সামিউল বাশিরের গবেষণাগুলোর মূল ক্ষেত্র জুড়ে রয়েছে ডায়াবেটিস, ডেঙ্গু, টেলিমেডিসিন, ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, এইচএলএ-বি২৭ এবং টিউবারকুলোসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বিশ্লেষণ, বায়োমার্কার চিহ্নিতকরণ এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি। ইতোমধ্যে তাঁর ১৮টি গবেষণাপত্র গুগল স্কলার ইনডেক্সড আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে শিক্ষকতা করছেন। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “সামিউল একজন নিষ্ঠাবান গবেষক—কুড়িগ্রাম এইচটি তাঁর মতো শিক্ষক পেয়ে গর্বিত।” ঢাকা ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ওমর আলী সরকার বলেন, “আমি যখন অধ্যক্ষ ছিলাম, তখন বাশির আমার অধীনে বিএসসি করত। তখন থেকেই তার গবেষণার প্রতি একনিষ্ঠ আগ্রহ লক্ষ্য করেছিলাম।” আরেক সহকর্মী ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, “সে ছিল দক্ষ, বিশ্বস্ত ও গবেষণানিবেদিত এক সহকর্মী।”

ব্যক্তিজীবনে সামিউল বাশির অত্যন্ত পরিশ্রমী ও নিঃস্বার্থ একজন গবেষক। তাঁর স্ত্রী আফরোজা খাতুন বলেন, “ল্যাব, ল্যাপটপ, বই আর জার্নালই যেন তার জীবন। উপার্জনের পুরোটা সে গবেষণার পিছনেই ব্যয় করে।”

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তিনি অনন্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ঢাকা ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি থেকে বিএসসি ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিন সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান UKAP (ইউক্যাপ) থেকে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন বায়োমেডিকেল সায়েন্স অর্জন করেন। এছাড়াও, তিনি আমেরিকান সোসাইটি ফর ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি (ASCP) থেকে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল ল্যাবরেটরি সাইন্টিস্ট (MLS) এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন হেলথ কেয়ার প্রোফেশনস (ICHP) থেকে ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি সাইন্টিস্ট (CLS) হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তাঁর গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বের বিভিন্ন সম্মেলন থেকে আমন্ত্রণ পান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অন ইমিউনোলজি, ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অন মাইক্রোবায়োলজি এবং সেভেন্থ ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অন অ্যাপ্লায়েড মাইক্রোবায়োলজি।

সামিউল বাশিরের চিকিৎসা বিজ্ঞানে অভিজ্ঞতা, গবেষণাগারভিত্তিক প্রকাশনা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক অনন্য সম্পদে পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে তিনি গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি সহজলভ্য ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন, যা সারা বিশ্বের মানুষের উপকারে আসবে।

এই তরুণ গবেষকের সাফল্য আমাদের দেশের চিকিৎসা খাতের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।