আবু সাঈদ হত্যার ভিডিও এআই দিয়ে বানানো : হাসিনার আইনজীবী
- আপডেট সময় : ০৪:০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
- / 41
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ বুধবার (৬ আগস্ট) শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলে এই কার্যক্রম, যার মধ্যবর্তী সময়ে কিছুটা বিরতি দেওয়া হয়।
তৃতীয় দিনে সাক্ষ্য দেন দুজন প্রত্যক্ষদর্শী—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিনা মুরমু এবং এনটিভির রংপুর প্রতিনিধি একেএম মঈনুল হক। তারা গত বছরের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির বিস্তারিত বিবরণ দেন।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন আসামিদের পক্ষ থেকে তাদের জেরা করেন। বিশেষ করে মঈনুল হকের সাক্ষ্যে থাকা হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সেটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হতে পারে। তবে সাক্ষী এ অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ফুটেজের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর আগে, দ্বিতীয় দিনে (৪ আগস্ট) পঙ্গু হওয়া শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ইমরান ও চোখ হারানো দিনমজুর পারভীন সাক্ষ্য দেন। তাঁরা তাঁদের ক্ষতবিক্ষত জীবনের জন্য শেখ হাসিনাসহ অন্যদের দায়ী করেন এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
প্রথম দিন (৩ আগস্ট) সূচনা বক্তব্যের পর প্রথম সাক্ষ্য দেন আন্দোলনে আহত খোকন চন্দ্র বর্মণ। তিনিও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর জেরার মুখোমুখি হন।
মামলার অপর আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন, যা ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেছে—শর্ত ছিল, তিনি সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশ করবেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। একই সঙ্গে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়।
পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে।














