বাংলাদেশ ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

মরণব্যাধি থ্যালাসেমিয়ায় রাহাতের জীবন-মৃত্যুর লড়াই

  • আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / 45

 

কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর মধ্যপাড়ায় জন্ম নিয়েছে একটি নিষ্পাপ শিশু, মৃত মোঃ আনোয়ার হোসাইনের ছেলে মোঃ রাহাত হোসাইন নিরাদ। মাত্র ৮ বছর বয়সেই জীবনের নির্মম এক সত্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। পিতাকেও হারিয়েছেন বহুদিন আগেই। আর এই কোমল বয়সেই সে আক্রান্ত হয়েছে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি এক মরণব্যাধি—থ্যালাসেমিয়ায়।

 

থ্যালাসেমিয়া কোনো সাধারণ রোগ নয়। এটি এমন একটি রক্তজনিত ব্যাধি, যার জন্য আক্রান্ত ব্যক্তিকে সারাজীবন লড়তে হয়। মোঃ রাহাত হোসাইন নিরাদ প্রতিমাসে দুইবার করে রক্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। ছোট্ট এই শিশুটি জানেই না স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ কেমন। রক্ত না পেলে তার দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়ে, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, চোখে-মুখে ভর করে ভয়। এই বয়সে যেখানে অন্য শিশুরা খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে সময় কাটায়, সেখানে নিরাদের সময় কাটে হাসপাতালে, রক্তের ক্যানুলা হাতে, বেদনায় কাতরাতে কাতরাতে।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে আন্তরিকতার সাথে। ঢাকা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তার দেখানো হয়েছে নিয়মিত। কিন্তু বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে রক্ত দেওয়া ও ওষুধপত্র সেবনের পরেও রোগের কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। বরং দিনকে দিন রাহাতের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বেঁচে থাকার জন্য উন্নত চিকিৎসা এখন একান্ত জরুরি। আর এর জন্য প্রয়োজন প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা।

চিকিৎসার পেছনে ইতিমধ্যেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ছয় থেকে সাত লক্ষ টাকা। যা ছিল, যা জোগাড় করা সম্ভব—সবই খরচ করে ফেলেছে তার পরিবার। নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তারা। ঘরের যা কিছু বিক্রি করা সম্ভব, বিক্রি করে দিয়েছে। স্বজনদের কাছ থেকেও সহযোগিতা নিয়েছে। এখন আর তাদের কিছুই নেই, নেই কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস, নেই কোনো সহায় সম্বল। অসহায় হয়ে পড়ে আছে পরিবারটি।

এই অবস্থায় রাহাতের বাবা-মা আজ সমাজের সকল হৃদয়বান, সহানুভূতিশীল ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার একটু সাহায্য হতে পারে রাহাতের জীবনের বড় আশীর্বাদ।

এক কাপ চায়ের মূল্যের টাকা হয়তো আমাদের কিছু আসে-যায় না, কিন্তু সেই সামান্য টাকাটিও যদি আমরা একত্র করি—তাহলেই একটি শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব। রাহাত বাঁচতে চায়, স্কুলে যেতে চায়, বন্ধুদের সাথে খেলতে চায়, মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চায়। তাকে সেই সুযোগটা আমরা কি দিতে পারি না?

আসুন, মানবিক হই। আসুন, একসাথে দাঁড়াই মোঃ রাহাত হোসাইন নিরাদের পাশে। আপনাদের সহায়তা, দোয়া এবং ভালোবাসা এই শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মরণব্যাধি থ্যালাসেমিয়ায় রাহাতের জীবন-মৃত্যুর লড়াই

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

 

কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর মধ্যপাড়ায় জন্ম নিয়েছে একটি নিষ্পাপ শিশু, মৃত মোঃ আনোয়ার হোসাইনের ছেলে মোঃ রাহাত হোসাইন নিরাদ। মাত্র ৮ বছর বয়সেই জীবনের নির্মম এক সত্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। পিতাকেও হারিয়েছেন বহুদিন আগেই। আর এই কোমল বয়সেই সে আক্রান্ত হয়েছে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি এক মরণব্যাধি—থ্যালাসেমিয়ায়।

 

থ্যালাসেমিয়া কোনো সাধারণ রোগ নয়। এটি এমন একটি রক্তজনিত ব্যাধি, যার জন্য আক্রান্ত ব্যক্তিকে সারাজীবন লড়তে হয়। মোঃ রাহাত হোসাইন নিরাদ প্রতিমাসে দুইবার করে রক্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। ছোট্ট এই শিশুটি জানেই না স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ কেমন। রক্ত না পেলে তার দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়ে, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, চোখে-মুখে ভর করে ভয়। এই বয়সে যেখানে অন্য শিশুরা খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে সময় কাটায়, সেখানে নিরাদের সময় কাটে হাসপাতালে, রক্তের ক্যানুলা হাতে, বেদনায় কাতরাতে কাতরাতে।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে আন্তরিকতার সাথে। ঢাকা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তার দেখানো হয়েছে নিয়মিত। কিন্তু বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে রক্ত দেওয়া ও ওষুধপত্র সেবনের পরেও রোগের কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। বরং দিনকে দিন রাহাতের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বেঁচে থাকার জন্য উন্নত চিকিৎসা এখন একান্ত জরুরি। আর এর জন্য প্রয়োজন প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা।

চিকিৎসার পেছনে ইতিমধ্যেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ছয় থেকে সাত লক্ষ টাকা। যা ছিল, যা জোগাড় করা সম্ভব—সবই খরচ করে ফেলেছে তার পরিবার। নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তারা। ঘরের যা কিছু বিক্রি করা সম্ভব, বিক্রি করে দিয়েছে। স্বজনদের কাছ থেকেও সহযোগিতা নিয়েছে। এখন আর তাদের কিছুই নেই, নেই কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস, নেই কোনো সহায় সম্বল। অসহায় হয়ে পড়ে আছে পরিবারটি।

এই অবস্থায় রাহাতের বাবা-মা আজ সমাজের সকল হৃদয়বান, সহানুভূতিশীল ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার একটু সাহায্য হতে পারে রাহাতের জীবনের বড় আশীর্বাদ।

এক কাপ চায়ের মূল্যের টাকা হয়তো আমাদের কিছু আসে-যায় না, কিন্তু সেই সামান্য টাকাটিও যদি আমরা একত্র করি—তাহলেই একটি শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব। রাহাত বাঁচতে চায়, স্কুলে যেতে চায়, বন্ধুদের সাথে খেলতে চায়, মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চায়। তাকে সেই সুযোগটা আমরা কি দিতে পারি না?

আসুন, মানবিক হই। আসুন, একসাথে দাঁড়াই মোঃ রাহাত হোসাইন নিরাদের পাশে। আপনাদের সহায়তা, দোয়া এবং ভালোবাসা এই শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারে।