আলোচিত নেতা আনিসুর রহমানকে অব্যাহতি দিল জামায়াতে ইসলামী
- আপডেট সময় : ১২:০৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
- / 46
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও স্থানীয় পর্যায়ের জামায়াত নেতা মো. আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণা এবং মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যম, অনলাইন পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়ায় ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত হলে জনমনে আলোড়ন ওঠে।
প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়, আনিসুর রহমান একটি ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে অন্তত ২১টি পরিবারকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তাদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এ ছাড়া ‘বাবু’ নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনা প্রকাশের পরই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বিষয়টি নিয়ে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়। এতে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মো. আনিসুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো পর্যায়ের নেতা নন; তিনি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের একজন সাধারণ কর্মী মাত্র।
জামায়াতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে তাকে সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কুড়িগ্রাম জেলা আমিরের নির্দেশে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী তাদের সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলার বিষয়ে সাফ জানিয়ে দেয় যে, কোনো নেতা বা কর্মী সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে। সে নীতিমালার আলোকে আনিসুর রহমানকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এবিষয়ে রাজিবপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, নিউজ হওয়ার পর বিষয় টি জেলা জামায়াতের নজরে আসলে জেলা আমীর ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আনিছুর রহমান কে সংগঠন থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এবং তদন্ত কমিটির তদন্ত চলমান রয়েছে। চুড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য জেলায় সুপারিশ করা হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগীরা সঠিক তদন্ত ও যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি রাজিবপুরে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট রাজনীতির ওপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।













