যুক্তরাজ্যে হু হু করে বিক্রি হচ্ছে আ.লীগ নেতাদের সম্পত্তি, কোটি কোটি টাকার সম্পদ জব্দ
- আপডেট সময় : ১১:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
- / 34
অনলাইন ডেস্ক:
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত সাবেক ক্ষমতাসীনদের বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনাবেচা, স্থানান্তর এবং পুনঃঋণায়নের তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ও আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।
২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ দমন সংস্থা (এনসিএ) শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকোর ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের মালিকানাধীন ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ করে। একই সময় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে যুক্তরাজ্যে থাকা ৩০০টির বেশি সম্পত্তি জব্দ করা হয়, যার মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা।
তদন্তে আরও উঠে আসে, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান নাইটসব্রিজে ৭.৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের একটি বাড়ি প্রথমে হস্তান্তর, পরে বিক্রি করেছেন একটি অজ্ঞাত কোম্পানির কাছে। তার ভাই শাফিয়াত সোবহানের নামে সারে’র ভার্জিনিয়া ওয়াটারে ৮ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি বাড়ির লেনদেনের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এছাড়া সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান রিজেন্টস পার্কের ১০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের টাউনহাউস বিক্রি করেছেন এবং আরও তিনটি রিফাইন্যান্স আবেদন করেছেন।
অভিযুক্তদের দাবি, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তারা তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান মনসুর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন যুক্তরাজ্য সরকারকে অনুরোধ করেছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব সম্পত্তি যেন বিক্রি, স্থানান্তর বা বন্ধক না রাখা হয়।
আহসান মনসুর বলেন, “আমরা নিশ্চিত অনেকে এরই মধ্যে তাদের সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করছেন। তাই আরও কঠোরভাবে এগুলো ফ্রিজ করা দরকার।” একইসঙ্গে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের দুর্নীতিবিষয়ক অল-পার্টি গ্রুপের প্রধান জো পাওয়েল মন্তব্য করেন, “যদি দ্রুত সম্পত্তি জব্দ না করা হয়, তবে সেগুলো গায়েব হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। লন্ডন যেন দুর্নীতির নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
তদন্তে যুক্তরাজ্যের আইনজীবী ও পরামর্শদাতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে—তারা এসব লেনদেন যথাযথভাবে যাচাই করেছেন কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ব্রিটেনে এসব সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রবণতা বাড়তে শুরু করে। লন্ডনের ল্যান্ড রেজিস্ট্রিতে জমা পড়া নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি দ্রুত সম্পদ বিক্রি ও ঋণপুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তদন্ত কেবল বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী লড়াই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থানকেও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।














