মামলার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৯:১০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / 47
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় একটি রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজিবপুর উপজেলা শাখার প্রভাবশালী নেতা ও উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবু মিয়া জানিয়েছেন, জামায়াত অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে আনিছুর রহমান তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন।
গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছানো একাধিক অডিও ও ভিডিও ক্লিপে এ ঘটনায় আনিছুর রহমানের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া গেছে। একটি অডিওতে আনিছ বাবু মিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তোমার বিষয়ে আমাকে ফোন দিয়েছিল অফিসার। আমি বলেছি, ও আমার ছোট ভাই, বিষয়টা আমি দেখবো। তোমাদের বিষয়টাও আমি দেখবো। তুমি জরুরি আমার সাথে দেখা করো। তোমার যদি একটা পশমেরও ক্ষতি হয়, আমি রাজিবপুরে দ্বিতীয় দিন মুখ দেখাবো না।”
অন্য একটি ভিডিওতে আনিছুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, “২, ৪, ৬ মাসের মধ্যে জামিন পাবা না ঘর ভাঙা মামলায়। দুই দিনের জন্য হলেও জেল হবে। ওসি আমাকে বলছে, আপনি ওটা ম্যানেজ করেন। আমি বলেছি, যা করা লাগে করছি। ওসি বলছে, আমাকে ৫০ হাজার টাকা দিবেন। আয়ু আর অফিসার আছে, তাদের ২-৪ হাজার টাকা দিয়েন। আমি পরে বলেছি, সরি আমি পরবো না এতো বড় এমাউন্ট। যদি কোনো দায়িত্ব থাকতো, আমি বলতে পারতাম, ওর তো বড় কোনো দায়িত্ব নাই।”
অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে ব্যবসায়ী বাবু মিয়া বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। দীর্ঘদিন ধরে রাজিবপুর বাজারে বৈধভাবে পার্টস ব্যবসা করে আসছি। ৫ আগস্ট জামায়াত অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আনিছুর রহমান পুলিশকে টাকা দিতে হবে বলে জানায়। না হলে আমার বিরুদ্ধে মামলা হবে বলে হুমকি দেয়। এতে আমি দোকান খুলতে পারিনি। আমার পরিবার অনাহারে দিন কাটিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আনিছ পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে চেয়েছে। এটা একটি চাঁদাবাজির স্পষ্ট ঘটনা।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আনিছুর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “আমি এমন কিছু দাবি করতে পারি না। আল্লাহর ওয়াস্তে আমি এ ধরনের কোনো দাবি করিনি। এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত হিংসার কারণে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজিবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানি না। আনিছের সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা কেন তার মাধ্যমে টাকা চাইবো? আপনি ভালো করেই জানেন, আনিছুর একজন চিটার, সে নানা রকম প্রতারণামূলক কাজ করে বেড়ায়।”
তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের নাম ভাঙিয়ে টাকা চেয়েছে, ভুক্তভোগী যেন সরাসরি থানায় অভিযোগ দেন। আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো।”
রাজিবপুরে এই ঘটনা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এমন চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং অডিও-ভিডিও প্রমাণ সামনে আসায় এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।
















