কুড়িগ্রামের চরসাজাইয়ে এমপিওভুক্তির নামে জমি জালিয়াতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
- / 57
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের চরসাজাই এলাকায় একটি পুরনো মাদরাসার জমির দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত একটি মাদরাসার নাম ও জমির দলিল ব্যবহার করে ভিন্ন স্থানে নতুন করে একটি মাদরাসা স্থাপন করে সরকারিভাবে অনুমোদন নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে, যা এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালে আলহাজ্ব সেকান্দার আলীর দানকৃত এক একর জমির ওপর চরসাজাই এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে “চরসাজাই এবতেদায়ী মাদরাসা” প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ এটি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে এটি দাখিল স্তরে উন্নীত হয়।
কিন্তু ২০১৮ সালে জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি একই নামে এবতেদায়ী স্তরে একটি নতুন মাদরাসা চালু করতে চাইলে স্থানীয়দের বাধায় তা ব্যর্থ হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পর বিএনপি ঘনিষ্ঠ কিছু রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতায় মূল মাদরাসার জমির দলিলের ফটোকপি ব্যবহার করে দক্ষিণ চরসাজাইয়ের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ চরসাজাইয়ের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী ঘর উঠানো হয়েছে, যেখানে কোনো জানালা, দরজা বা শিক্ষা কার্যক্রমের উপযোগী অবকাঠামো নেই। এমনকি ‘চরসাজাই এবতেদায়ী মাদরাসা’ নামে কোনো সাইনবোর্ড বা নামফলকও দেখা যায়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র এমপিওভুক্তির উদ্দেশ্যে স্থাপিত একটি প্রতারণামূলক অবকাঠামো।
স্থানীয় প্রবীণ আব্দুল কাশেম বলেন, “মূল মাদরাসাটি দীর্ঘদিন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চরসাজাইয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু এখন তা গোপনে দক্ষিণ চরসাজাইয়ে সরিয়ে নতুন করে চালু করার চেষ্টা হচ্ছে।”
পুরনো জমিদাতা আলহাজ্ব সেকান্দার আলীর পুত্র জাহিদুল ইসলাম চান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাবার দানকৃত জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের দলিল জালিয়াতি করে অন্যত্র ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এটি প্রতারণার শামিল।”
তার ছেলে আব্দুস সালাম বলেন, “আমাদের জমির দলিল অন্যত্র ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। আমরা আমাদের জমি দখল হতে দেব না।”
অন্যদিকে, নতুন স্থাপিত ঘরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি ফুলমিয়া দাবি করেন, “৪৫ বছরের পুরনো মাদরাসাটি এতদিন অবহেলায় ছিল, আমরা সেটা নিজেরা নিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইউএনও স্যারের স্বাক্ষরসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি ইউনিয়নের আওতায় যেকোনো জায়গায় থাকতে পারে। ৫ নম্বর ওয়ার্ড বা ৬ নম্বর ওয়ার্ড নয়, মূল বিষয় হচ্ছে এটি কোদালকাটি ইউনিয়নের মধ্যে।”
এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে এলাহী বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের নাম দুই স্থানে প্রদর্শিত হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। যদি সঠিক জমির দলিল ব্যবহার না করে অন্যত্র প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়ে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এমপিওভুক্তির নামে এমন জমি জালিয়াতির অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করছেন।
















