ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি মূলধারার গণমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়ায়: ড. মুহাম্মদ ইউনূস
- আপডেট সময় : ০১:২৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
- / 51
অনলাইন ডেস্ক:
মূলধারার গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও ভুয়া তথ্য (ডিসইনফরমেশন) মোকাবেলায় জাতিসংঘকে একটি কার্যকর কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রধান সুসান ভাইজ এবং সংস্থাটির ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন অ্যান্ড সেফটি অব জার্নালিস্টস বিভাগের সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মেহদি বেনচেলাহ সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎ উপলক্ষে ‘মুক্ত, স্বাধীন ও বহুমাত্রিক গণমাধ্যম ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়ন’ শীর্ষক একটি যৌথ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়, যা তৈরি করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং ইউনেস্কো।
প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই প্রতিবেদনটির জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।” তিনি গুজব ও ভুয়া তথ্যকে দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “কিছু গুজব দেশের বাইরের উৎস থেকে আসে, আবার কিছু স্থানীয়ভাবে ছড়ায়। এটা যেন নিয়মিত বোমাবর্ষণের মতো।”
তিনি সতর্ক করেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি মূলধারার গণমাধ্যমও অনেক সময় ভুল তথ্য ছড়ায়। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতিসংঘের সহায়তা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জাতিসংঘকে শুধু সরকারের সঙ্গে নয়, গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলা উচিত।”
ড. ইউনূস আরও বলেন, “গণমাধ্যমের জন্য স্বাধীন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা দরকার। যদি কোনো গণমাধ্যম বারবার গুজব ছড়ায়, তাহলে সেটিকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে তারা বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। জাতিসংঘের বক্তব্য জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ—তাদের সহায়তা দরকার।”
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের জবাবে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ জানান, বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনে গণমাধ্যমে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিচারক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
ইউনেস্কোর সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মেহদি বেনচেলাহ বলেন, প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকার এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এর প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি।”
প্রতিবেদনটি ইউএনডিপির ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিসিস অ্যান্ড সার্ভিসেস (এসআইপিএস)’ প্রকল্পের আওতায় এবং ইউনেস্কোর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক ম্যান্ডেট অনুসরণ করে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনেস্কোর কর্মকর্তারা।














