আদানির ‘সম্পূর্ণ’ বকেয়া পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ১১:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
- / 46
অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ সরকার জুন মাসে ভারতের আদানি পাওয়ারকে ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির কাছে যেসব বিল বকেয়া ছিল, সেগুলো পুরোপুরি পরিশোধ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানায়, আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে এ পরিশোধকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় এককালীন অর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে বাংলাদেশ থেকে ৯০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার পেয়ে থাকে।
সূত্র বলছে, বকেয়া বিল, বিলম্ব মাশুল ও অন্যান্য আর্থিক বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশ-আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি আইনি ও আর্থিক দিক থেকে আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তি সংক্রান্ত যেসব আপত্তি ও প্রশ্ন ছিল, সেগুলোও নিষ্পত্তি হয়েছে।
উল্লেখ্য, আদানি পাওয়ার ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করে আসছে। সব বকেয়া পরিশোধের পর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আদানি পাওয়ারকে অনুরোধ জানিয়েছে—৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিটই যেন চাহিদা অনুযায়ী চালু রাখা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করলে বিলম্ব মাশুল মওকুফ করা হবে—বাংলাদেশ সে শর্ত পূরণ করেছে। এছাড়া, এখন থেকে নিয়মিত বিল পরিশোধ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ দুই মাসের সমপরিমাণ বিলের (প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার) একটি ঋণপত্র (এলসি) খুলেছে এবং বাকি পাওনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিও দিয়েছে।
এর আগে ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছিল, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত আদানি পাওয়ারের কাছে বাংলাদেশের বকেয়া প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা দিলীপ ঝা জানান, বাংলাদেশ সরকার মোট ২ বিলিয়ন ডলারের বিলের মধ্যে ১.২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে এবং বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত ১৩৬ মিলিয়ন ডলার চার্জ করা হয়েছে।
তবে আদানি পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী এসবি খ্যালিয়া আশ্বস্ত করে জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ কখনোই বন্ধ হয়নি। ২০২৫ অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে আদায়যোগ্য বকেয়া ৫০০ কোটি রুপি কমে গেছে।
চুক্তির পুনর্নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে আদানির পক্ষেও কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আওতায় গোড্ডা প্রকল্প, যা পূর্বে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অধীনে ছিল, এখন মূল কোম্পানির সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে—যা অপারেশন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করে তুলবে।














