শেখ মুজিবের মতো নেতাও নির্বাচনে কারচুপি করেছেন
- আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
- / 59
অনলাইন ডেস্ক:
ক্ষমতার লোভকে ভয়ানক আখ্যা দিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এমন কোনো নির্বাচন নেই যেটা বিতর্কিত হয়নি। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শেখ মুজিবুর রহমান কারচুপির আশ্রয় নিয়েছিলেন।”
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি। এদিন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে তাকে কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিকালে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করে হাবিবুল আউয়াল নাকি বলেছিলেন, “আপনাকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেবো, আর আপনি যে টাকা দেবেন তা পকেটে রাখবো।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ২০-২৫ হাজার টাকার স্থলে ৪-৫ লাখ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়, যা আত্মসাতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হাবিবুল আউয়াল এসব অর্থের কোনো হিসাব জমা দেননি বলেও জানান পিপি।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, “তিনি ৭০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি। ফ্যাসিবাদ হটাতে গিয়ে যেন আমরা নিজেরাই ফ্যাসিস্ট না হয়ে যাই।”
জবাবে আদালত বলেন, “আপনার কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু আপনি বিতর্কমুক্ত নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।” জবাবে হাবিবুল আউয়াল বলেন, “আমি স্বীকার করছি, আমি ডামি নির্বাচন করেছি। রাজনৈতিক সমঝোতার অভাবে একতরফা নির্বাচন হয়েছে। তবে আমি দুর্নীতি করিনি, অর্থ আত্মসাৎ করিনি।”
এ সময় বরিশাল সিটি নির্বাচনে চরমোনাই পীর ফয়জুল করিমের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হলে হাবিবুল আউয়াল বলেন, “আমি কথাপ্রসঙ্গে বলেছিলাম—তিনি কি ইন্তেকাল করেছেন? এই মন্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।”
শুনানির একপর্যায়ে হাবিবুল আউয়াল বলেন, “জাস্টিফাই করার সুযোগ না দিলে একটা জীবনকে মেরে ফেলেন।” এতে বিরক্তি প্রকাশ করে পিপি বলেন, “এখানে সাধু সাজার সুযোগ নেই, আপনি নিজের অপরাধ বলুন।”
মামলার পটভূমিতে জানা যায়, গত ২২ জুন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন খান বাদী হয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
হাবিবুল আউয়ালকে বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গত ২৩ জুন একই মামলায় সাবেক সিইসি কে এম নূরুল হুদার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।














