বাংলাদেশ ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

গুমের সঙ্গে জড়িত ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা: গুম কমিশনের প্রতিবেদন

  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
  • / 54

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একে অপরের প্রয়োজন অনুযায়ী সীমান্ত পেরিয়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবৈধভাবে আদান-প্রদান করত — এমন বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে গুম কমিশনের দ্বিতীয় প্রতিবেদনে। গত ৪ জুন কমিশন এই প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বহু নাগরিককে গুম করে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হতো এবং একইভাবে ভারত থেকেও অনেকে গোপনে বাংলাদেশে আনা হতো। কোনো আদালতের অনুমতি বা নথিভুক্ত মামলার ভিত্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ গোপনে এসব অপারেশন চলত। কমিশন এই প্রক্রিয়াকে ‘আন্তরাষ্ট্রীয় গুমপ্রক্রিয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

কমিশন অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছে, যারা গুমের পর ভারতে পাচার হয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এক জবানবন্দীতে একজন বলেছেন, ‘‘আমাকে চোখ বেঁধে ভারতের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়, পরে আবার বাংলাদেশে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বলা হয়, তুমি মরো বা বাঁচো, সেটা আমরা ঠিক করব।’’

অন্য একজন ভুক্তভোগী জানান, তাকে ভারতীয় মুসলমানদের নিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে ভারতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে আবার বাংলাদেশে এনে র‍্যাবের হেফাজতে রাখা হয়।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের নিরাপত্তার নামে পরিচালিত হলেও ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। ফেরত আসা অনেককে আবার ডিজিএফআই ও র‍্যাবের হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে এবং কেউ কেউ পুনরায় নিখোঁজ হয়ে গেছেন, যাদের কোনো খোঁজ পরিবারের কাছে নেই।

কমিশন জানিয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডে দুই দেশের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মৌখিক সমঝোতা থাকলেও কোনো লিখিত চুক্তি বা আইনি কাঠামো নেই। ফলে গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবার আইনি সহায়তা তো দূরের কথা, প্রিয়জনের খোঁজ পর্যন্ত পায় না।

কমিশন সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ‘আন্তরাষ্ট্রীয় গুম’ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ লঙ্ঘনের শামিল। এতে ব্যক্তি-স্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা ও বিচারপ্রাপ্তির অধিকার পুরোপুরি ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গুমের সঙ্গে জড়িত ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা: গুম কমিশনের প্রতিবেদন

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একে অপরের প্রয়োজন অনুযায়ী সীমান্ত পেরিয়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবৈধভাবে আদান-প্রদান করত — এমন বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে গুম কমিশনের দ্বিতীয় প্রতিবেদনে। গত ৪ জুন কমিশন এই প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বহু নাগরিককে গুম করে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হতো এবং একইভাবে ভারত থেকেও অনেকে গোপনে বাংলাদেশে আনা হতো। কোনো আদালতের অনুমতি বা নথিভুক্ত মামলার ভিত্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ গোপনে এসব অপারেশন চলত। কমিশন এই প্রক্রিয়াকে ‘আন্তরাষ্ট্রীয় গুমপ্রক্রিয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

কমিশন অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছে, যারা গুমের পর ভারতে পাচার হয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এক জবানবন্দীতে একজন বলেছেন, ‘‘আমাকে চোখ বেঁধে ভারতের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়, পরে আবার বাংলাদেশে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বলা হয়, তুমি মরো বা বাঁচো, সেটা আমরা ঠিক করব।’’

অন্য একজন ভুক্তভোগী জানান, তাকে ভারতীয় মুসলমানদের নিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে ভারতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে আবার বাংলাদেশে এনে র‍্যাবের হেফাজতে রাখা হয়।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের নিরাপত্তার নামে পরিচালিত হলেও ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। ফেরত আসা অনেককে আবার ডিজিএফআই ও র‍্যাবের হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে এবং কেউ কেউ পুনরায় নিখোঁজ হয়ে গেছেন, যাদের কোনো খোঁজ পরিবারের কাছে নেই।

কমিশন জানিয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডে দুই দেশের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মৌখিক সমঝোতা থাকলেও কোনো লিখিত চুক্তি বা আইনি কাঠামো নেই। ফলে গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবার আইনি সহায়তা তো দূরের কথা, প্রিয়জনের খোঁজ পর্যন্ত পায় না।

কমিশন সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ‘আন্তরাষ্ট্রীয় গুম’ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ লঙ্ঘনের শামিল। এতে ব্যক্তি-স্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা ও বিচারপ্রাপ্তির অধিকার পুরোপুরি ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে।