তিন সাবেক সিইসি ও কমিশনারদের বিরুদ্ধে মামলা করবে বিএনপি
- আপডেট সময় : ০১:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
- / 52
অনলাইন ডেস্ক:
বিতর্কিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনাকারী সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনারদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আগামী রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা দায়ের করা হবে বলে বিএনপির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানিয়েছে, রোববার সকালে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে হস্তান্তর করবেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি দায়ের করবেন। মামলার কাগজপত্রে মহাসচিবের স্বাক্ষর থাকবে।
বিএনপির অভিযোগ, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘একতরফা ও বিনা ভোটের নাটক’ হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়েছে। ওই নির্বাচন পরিচালনা করেছিলেন তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। ভোট ছাড়াই ১৫৩টি আসনে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এই কমিশনের অন্যান্য সদস্য ছিলেন মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী ও মো. শাহনেওয়াজ।
এরপর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরার অভিযোগ করে বিএনপি। ওই নির্বাচন কমিশনের প্রধান ছিলেন কে এম নুরুল হুদা। তার কমিশনে ছিলেন মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। কমিশনার মাহবুব তালুকদার মৃত্যুবরণ করেছেন।
সবশেষ বিতর্কিত নির্বাচন পরিচালনা করেছেন কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন। ওই নির্বাচনে ভোটের হার নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ভোটের দিন দুপুর ৩টা পর্যন্ত ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য দিলেও মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ভোটের হার ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হাবিবুল আউয়াল লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন বলে বিএনপির দাবি। এ কমিশনের সদস্য ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, মো. আনিছুর রহমান, মো. আলমগীর ও বেগম রাশেদা সুলতানা।
বিএনপি বলছে, এই তিনটি কমিশন গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া জনগণের সঙ্গে অবিচার মেনে নেওয়া হবে না।














