নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়াতে ২ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে অস্ট্রেলিয়া
- আপডেট সময় : ০৪:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
- / 51
অনলাইন ডেস্ক:
অস্ট্রেলিয়া আবারও বাংলাদেশ থেকে ভিসা কার্যক্রম চালু করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ২ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার নবনিযুক্ত হাইকমিশনার সুসান রাইল।
ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় এবং বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। হাইকমিশনার জানান, এখন থেকে ভিসার আবেদন অনলাইনে করা যাবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ৬৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী ও ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বসবাস করছেন।
বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া, আসন্ন নির্বাচন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সাংবিধানিক, বিচারিক ও প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা। তিনি জানান, আগামী মাসে ঐতিহাসিক জুলাই বিদ্রোহের বার্ষিকীতে ‘জুলাই সনদ’ প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়া ইউএনডিপি’র মাধ্যমে ২ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদান দেবে বলে জানান হাইকমিশনার। এছাড়া তিনি জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে পৌঁছেছে, যা গত পাঁচ বছরে গড়ে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে বেড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস কর্মসূচির আওতায় গড়ে ওঠা তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি অ্যালামনাই দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এসময় অধ্যাপক ইউনূস অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে হাইকমিশনার রাইল বলেন, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার অতিরিক্ত মানবিক সহায়তা দিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মোট সহায়তা দাঁড়িয়েছে ৫৫৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে। তিনি বলেন, মিয়ানমারে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে সমর্থন দিতে থাকবে।
সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করতে পেরে তিনি দারুণ আনন্দিত এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্রদ্ধা করে আসছেন।














