বাংলাদেশেও করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়ছে, আক্রান্ত ২৭ জন
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫
- / 68
অনলাইন ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশেও শনাক্ত হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই ভ্যারিয়েন্টে কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে জুন মাসের প্রথম ৯ দিনে ২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (৯ জুন) রাতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জ্বর, সর্দি, কাশি বাড়ছে। এর পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট পরিবর্তিত হওয়ায় সংক্রমণও বেড়েছে। তবে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে। একসঙ্গে দুটি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শারীরিক অবস্থা গুরুতর হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত করোনা পরীক্ষা করতে হবে। বয়স্ক ও জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
গত দুই সপ্তাহে দেশে নতুন করে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার হার বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর আগের দিন চার জনের নমুনা পরীক্ষায় তিন জনের শরীরে সংক্রমণ পাওয়া যায়। একদিনের ব্যবধানে শনাক্তের হার বেড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ। তবে এ সময়ে ছয় জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে এবং সবাইকে এই নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
গত ৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে একজন পুরুষ রোগীর মৃত্যু হয়।
এদিকে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে অমিক্রন সাব-ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণ বাড়ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে দেশে সংক্রমণ রোধে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। দেশের স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের আইএইচআর ডেস্কগুলোতে স্ক্রিনিং ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে— বারবার কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা যাবে না। হাঁচি-কাশির সময় বাহু, টিস্যু বা কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হবে।
দেশে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার ও ডিজিটাল থার্মোমিটারের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত মাস্ক, গ্লাভস ও সুরক্ষামূলক পোশাক সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারতসহ সংক্রমণ প্রবণ দেশগুলোতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
সন্দেহভাজন রোগীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে— অসুস্থ হলে ঘরে অবস্থান করুন এবং গুরুতর অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। রোগীদের নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আইইডিসিআর-এর হটলাইন (০১৪০১-১৯৬২৯৩)-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে রেল ও মেট্রোরেলে মাস্ক ছাড়া যাতায়াত না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।














