টানা ১২ দিনের মতো জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘তথ্য আপা’ কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি
- আপডেট সময় : ১০:১৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫
- / 72
অনলাইন ডেস্ক:
দুই দফা দাবিতে টানা ১২তম দিনের মতো জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের কর্মীরা।
রবিবার (৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে তারা আবারও প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। বেলা সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক কর্মী দাবি-সংবলিত ব্যানার হাতে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এর আগে শনিবার (৭ জুন) পবিত্র ঈদুল আজহার দিনেও সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন তারা। তবে এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই প্রকল্পের (২য় পর্যায়) কর্মীরা সমগ্রেডে পদ সৃজন করে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর এবং কর্তনকৃত বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানাচ্ছেন। তারা জানান, দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।
আন্দোলনরত কর্মীরা জানান, গত ১ জুন তারা একাধিক বাধা অতিক্রম করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে অবস্থান নেন এবং স্মারকলিপি প্রদান করেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি মেলেনি। বরং সেদিন বিকেলে পুলিশ তাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। কিছু কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কয়েকজনকে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কর্মরত আখতার জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিয়ে প্রতি মাসে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সহকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৩৯০ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। তবে দাবির বাস্তবায়নে এখনও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে আন্দোলনের পর মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আশ্বাস দিলেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
‘তথ্য আপা’ কর্মীদের ভাষ্যমতে, অন্যান্য সরকারি চাকরির মতো নিয়মিত পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৮ সালের নভেম্বরে তারা এ প্রকল্পে যোগ দেন।
বর্তমানে দেশের ৪৯২টি উপজেলায় ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের আওতায় তথ্যকেন্দ্রে একজন করে তথ্যসেবা কর্মকর্তা (১০ম গ্রেড), দুইজন তথ্যসেবা সহকারী (১৬তম গ্রেড) এবং একজন অফিস সহায়ক (২০তম গ্রেড) সহ মোট ১ হাজার ৯৬৮ জন মাঠ পর্যায়ে কর্মরত রয়েছেন। তারা তৃণমূল নারীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, আইন, জেন্ডার, ব্যবসা, পরিবার পরিকল্পনা ও সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক জরুরি তথ্য সরবরাহ ও সহায়তা দিয়ে আসছেন।














