পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সহজ নয়, তবে অগ্রগতি হচ্ছে
- আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
- / 56
অনলাইন ডেস্ক:
পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা খুব সহজ নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তাতে ধীরে হলেও অগ্রগতি হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে টাকা পাচার রোধে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কাজ চলছে। তবে এই কাজ সহজ নয়। যারা টাকা পাচার করে তারা খুবই চতুর। লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে টাকা পাচার করে, তাই সরাসরি শনাক্ত করা যায় না। কিন্তু এগুলো ট্রেস করা হচ্ছে। নাইজেরিয়ার মতো দেশে এই প্রক্রিয়ায় ২০ বছর লেগেছে। আমরা আশা করছি এক বা দুই বছরের মধ্যে অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।”
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বাজেটে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, প্রক্রিয়া চলছে এবং এখনো আইনি ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “যদি কালো টাকা সাদা করে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারতাম, তাহলে বাজেটের সাপোর্ট বাড়ত এবং আইএমএফ-এর কাছে যেতে হতো না। কালো টাকা আসলে হলো অপ্রদর্শিত আয়। বাজেটে শুধুমাত্র ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নৈতিক ও বাস্তব—দুই দিক থেকেই বিবেচনা করতে হবে। যদি ট্যাক্স আদায়ের সম্ভাবনা থাকে তাহলে বাস্তব দিক বিবেচনায় সুযোগ রাখা যেতে পারে।”
বাজেট বৈষম্যবিরোধী নয় দাবি করে উপদেষ্টা বলেন, “নারী, যুবক এবং স্টার্টআপদের জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রয়েছে। বিভিন্ন খাতে ট্যারিফ হ্রাস এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা রয়েছে। তাই একে বৈষম্যমূলক বলা যাবে না।”
বাজেট বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এবারের বাজেট গত বছরের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ছোট। তাই এটি বাস্তবায়ন করা খুব বেশি কঠিন হবে না। বাজেট এক বছরের জন্য হয়, মুদ্রানীতি ৬ মাসে করা গেলেও বাজেট ৩ বা ৬ মাসে করা যায় না।”
ফুটপ্রিন্ট বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা ভালো কিছু কাজ রেখে যেতে চাই। ভবিষ্যতের সরকার যদি তা অব্যাহত রাখে, তাহলে সেটাই হবে সাফল্য। আর যদি কেউ মনে করে কিছু ভুল হয়েছে, সেটি বাতিল করতেই পারেন।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, সেতু ও রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বাণিজ্য, বিমান, বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ বিভিন্ন আর্থিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা।














