বাংলাদেশ ১১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার প্রত্যয় আইন উপদেষ্টার

  • আপডেট সময় : ০৪:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
  • / 44

বিস্তারিত কমেন্টে

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসে প্রস্তাবিত ‘জুলাই চার্টার’ বাস্তবায়নের পর দেশব্যাপী বড় ধরনের আইন ও সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে কোনো স্বেচ্ছাচারী শাসক বা ফ্যাসিবাদী শাসন যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৫’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্বও করেন ড. নজরুল।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি আইনি ও বিচারিক কাঠামো গড়তে চাই যেখানে আইনের শাসন লঙ্ঘন বা স্বেচ্ছাচারিতা কঠিন হয়ে উঠবে। এই সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আবারও জারি হয়েছে। প্রয়োজনে পুনরায় ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হতে পারে।”

সভায় তিনি উল্লেখ করেন, “আগে যেভাবে আইন করা হতো, এখন অনেক বেশি খসড়া পর্যালোচনা ও সংসদীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি ইতিবাচক দিক।”

ড. নজরুল আরও দাবি করেন, বর্তমান সময়ে সরকারের সমালোচনার ক্ষেত্রে রয়েছে “অবারিত স্বাধীনতা” — যা পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এবং এটি বড় সংস্কারের একটি দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আইজিপি বাহারুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার শিশির মনির, পাবলিক প্রসিকিউটর মো. ওমর ফারুক ফারুকী, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওনসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনরা।

আলোচনায় অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, “খসড়ায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির মেডিকেল পরীক্ষার কথা বলা হলেও, কে বা কারা এই পরীক্ষা করবেন, তা উল্লেখ না থাকা একটি দুর্বলতা। এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে সংযোজন করা উচিত।”

অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেটদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হলেও তা বাস্তবায়নে জনবল বৃদ্ধি এবং বিচারিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। একইসঙ্গে ‘পুলিশ’ ও ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ আলাদা সংজ্ঞায়িত হওয়া উচিত।”

সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “আমরা গত ২৫ বছর ধরে যে পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছি, এই সংশোধনগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সেই প্রত্যাশিত পরিবর্তন আমরা পেতে পারি।”

চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ অ্যাক্ট, প্রিজন্স অ্যাক্ট, প্রিজনার্স অ্যাক্ট এবং জেল কোড থেকে ঔপনিবেশিক ধারা বাদ দেওয়ার এখনই সময়।”

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “আগের অনেক আলোচনায় পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধিত্ব ছিল না, কিন্তু এবার এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং স্বাগতযোগ্য।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার প্রত্যয় আইন উপদেষ্টার

আপডেট সময় : ০৪:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

বিস্তারিত কমেন্টে

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসে প্রস্তাবিত ‘জুলাই চার্টার’ বাস্তবায়নের পর দেশব্যাপী বড় ধরনের আইন ও সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে কোনো স্বেচ্ছাচারী শাসক বা ফ্যাসিবাদী শাসন যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৫’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্বও করেন ড. নজরুল।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি আইনি ও বিচারিক কাঠামো গড়তে চাই যেখানে আইনের শাসন লঙ্ঘন বা স্বেচ্ছাচারিতা কঠিন হয়ে উঠবে। এই সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আবারও জারি হয়েছে। প্রয়োজনে পুনরায় ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হতে পারে।”

সভায় তিনি উল্লেখ করেন, “আগে যেভাবে আইন করা হতো, এখন অনেক বেশি খসড়া পর্যালোচনা ও সংসদীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি ইতিবাচক দিক।”

ড. নজরুল আরও দাবি করেন, বর্তমান সময়ে সরকারের সমালোচনার ক্ষেত্রে রয়েছে “অবারিত স্বাধীনতা” — যা পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এবং এটি বড় সংস্কারের একটি দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আইজিপি বাহারুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার শিশির মনির, পাবলিক প্রসিকিউটর মো. ওমর ফারুক ফারুকী, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওনসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনরা।

আলোচনায় অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, “খসড়ায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির মেডিকেল পরীক্ষার কথা বলা হলেও, কে বা কারা এই পরীক্ষা করবেন, তা উল্লেখ না থাকা একটি দুর্বলতা। এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে সংযোজন করা উচিত।”

অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেটদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হলেও তা বাস্তবায়নে জনবল বৃদ্ধি এবং বিচারিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। একইসঙ্গে ‘পুলিশ’ ও ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ আলাদা সংজ্ঞায়িত হওয়া উচিত।”

সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “আমরা গত ২৫ বছর ধরে যে পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছি, এই সংশোধনগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সেই প্রত্যাশিত পরিবর্তন আমরা পেতে পারি।”

চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ অ্যাক্ট, প্রিজন্স অ্যাক্ট, প্রিজনার্স অ্যাক্ট এবং জেল কোড থেকে ঔপনিবেশিক ধারা বাদ দেওয়ার এখনই সময়।”

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “আগের অনেক আলোচনায় পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধিত্ব ছিল না, কিন্তু এবার এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং স্বাগতযোগ্য।”