৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, ভাতা নিচ্ছে ২৪০০ কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০১:২২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
- / 55
অনলাইন ডেস্ক:
দেশে মুক্তিযোদ্ধার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। ১৯৯৪ সালে সরকারি তালিকায় যেখানে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজার, সেখানে ২০২৪ সালে এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৫০ জনে। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৯০ হাজারেরও বেশি।
বর্তমানে প্রত্যেক স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা মাসে ২০ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা পান। সঙ্গে ঈদে ১০ হাজার করে দুই দফা, ২৬ মার্চে ৫ হাজার এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আরও ২ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতি মুক্তিযোদ্ধা বছরে গড়ে ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা পান। এর ভিত্তিতে হিসাব করলে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এ অবস্থার নিরসনে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করেছে। এর প্রথম ধাপে আজ (২ জুন) কুমিল্লা সার্কিট হাউজে সকাল ১০টা থেকে ৩১ জন অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে শুনানি শুরু হয়েছে।
জামুকার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৮ হাজার ৫০ জন। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত রয়েছেন ৮৯ হাজার ২৩৫ জন। গেজেট বাতিল, বয়সসীমা অতিক্রমসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মোট ২ হাজার ৭১৯টি মামলা বিচারাধীন। ইতোমধ্যে নির্ধারিত বয়সসীমা (১২ বছর ৬ মাস) না থাকায় ২ হাজার ১১১ জনের সনদ বাতিল করা হয়েছে এবং গত ১৫ বছরে মোট ৩ হাজার ৯২৬ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
জুলাই ২০২৪-এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক। দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও সনদ যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনার পর দেশব্যাপী জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ জমা পড়ে।
জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন বলেন, “ঢাকায় বসে কারও আসল বা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনাক্ত করা সম্ভব নয়। এজন্য আমরা অভিযোগ পাওয়া অঞ্চলে সরেজমিন যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছি। আজ কুমিল্লায় গিয়ে শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করব।”
দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে জামুকার। এতে করে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এ ইস্যুর অবসান এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যয়ের রোধ সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।














