বাংলাদেশ ০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

আর্থিক খাত ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছে আ.লীগ সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

  • আপডেট সময় : ১০:৪৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • / 54

অনলাইন ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে আর্থিক খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে এই খাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (২ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এবারের বাজেটের প্রস্তাবিত আকার ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম বাজেট। এর আগে সর্বশেষ ২০০৭-০৮ এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।

বাজেট বক্তৃতায় ড. সালেহউদ্দিন বলেন, আর্থিক খাতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট এবং ঋণ খেলাপির সংস্কৃতি চলে আসছে। বহু ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং পদ্ধতি বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ২০২৩ সালের জুনে খেলাপি ঋণের হার যেখানে ছিল ১০.১১ শতাংশ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ২০.২০ শতাংশ—অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ।

তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে আর্থিক খাতে এমন অপশাসন হয়েছে, যার ফলে খাতটি কার্যত ধ্বংসপ্রায়। তবে ৫ আগস্ট ২০২৪-এ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সরকার ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

এই লক্ষ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

এছাড়া তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে:
১. ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত পর্যালোচনা করে সংস্কার কর্মসূচির ভিত্তি তৈরি করা,
২. নীতি ও প্রবিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা,
৩. দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুরি বা পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আর্থিক খাত ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছে আ.লীগ সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১০:৪৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে আর্থিক খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে এই খাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (২ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এবারের বাজেটের প্রস্তাবিত আকার ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম বাজেট। এর আগে সর্বশেষ ২০০৭-০৮ এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।

বাজেট বক্তৃতায় ড. সালেহউদ্দিন বলেন, আর্থিক খাতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট এবং ঋণ খেলাপির সংস্কৃতি চলে আসছে। বহু ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং পদ্ধতি বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ২০২৩ সালের জুনে খেলাপি ঋণের হার যেখানে ছিল ১০.১১ শতাংশ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ২০.২০ শতাংশ—অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ।

তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে আর্থিক খাতে এমন অপশাসন হয়েছে, যার ফলে খাতটি কার্যত ধ্বংসপ্রায়। তবে ৫ আগস্ট ২০২৪-এ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সরকার ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

এই লক্ষ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

এছাড়া তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে:
১. ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত পর্যালোচনা করে সংস্কার কর্মসূচির ভিত্তি তৈরি করা,
২. নীতি ও প্রবিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা,
৩. দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুরি বা পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।