মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল, হাইকোর্টের রায়
- আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
- / 43
অনলাইন ডেস্ক:
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার আরও ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশও বহাল রাখা হয়েছে।
আজ সোমবার (২ জুন) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই বহুল আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই বেঞ্চ মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হুমায়ুন কবির মঞ্জু ও শামীমা দিপ্তী। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহাজাহান। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ বিচারিক আদালতের রায় সম্পূর্ণভাবে বহাল রাখার আবেদন করে।
মামলাটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় হাইকোর্টের এই বেঞ্চ নির্ধারণ করা হয় গত ২১ এপ্রিল। এরপর ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয় আপিল শুনানি।
ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে, যখন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর চেকপোস্টে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি তৎকালীন সময়ে ভ্রমণবিষয়ক তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজে কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন এবং ঢাকায় ফেরার পথে এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
পরে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ মামলার রায় দেন। রায়ে প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড এবং পুলিশ সদস্য ও সোর্স মিলিয়ে ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর সাত আসামি—চার পুলিশ সদস্য ও তিন এপিবিএন সদস্য—বেকসুর খালাস পান।
রায় ঘোষণার পর মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা আপিল করেন। আজকের রায়ের মাধ্যমে বিচারিক আদালতের রায়ই হাইকোর্টে বহাল রইল।














