বাংলাদেশ ১২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

  • আপডেট সময় : ০৬:০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
  • / 40

অনলাইন ডেস্ক:

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু শুক্রবার টোকিওতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ উত্তরণ, সংস্কারমূলক প্রচেষ্টা এবং জাতি গঠনে তার দেশের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় নেতা শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ একটি মুক্ত এবং উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (FOIP) অঞ্চল গঠনের লক্ষ্যে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ভাগাভাগি করেন। তারা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার ভিত্তিতে বহুপাক্ষিকতা, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় উঠে আসে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানা দিক। মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন (MIDI) এবং বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প বৃদ্ধির বেল্ট (BIG-B) প্রকল্পের আওতায় জাপানের অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস। জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ এবং উন্নয়ন নীতি ঋণ বিনিময়ের বিষয়েও উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (OSS), প্রিপেইড গ্যাস মিটার, ব্যাটারিচালিত সাইকেল কারখানা, তথ্য নিরাপত্তা পাইলট প্রকল্প এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (BSEZ) ভূমি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়েও সম্মতি প্রকাশ করা হয়।

নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে, জাপান সরকারের অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (OSA) প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য পাঁচটি টহল নৌকা সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে দ্রুত চুক্তি সম্পাদনের প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়।

মানবসম্পদ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করতেও উভয়পক্ষ একমত হন। জাপানের মানবসম্পদ উন্নয়ন বৃত্তি এবং অন্যান্য সহায়তার জন্য অধ্যাপক ইউনূস জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত জনগণকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অধ্যাপক ইউনূস ভাসান চরসহ অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রে জাপানের মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। উভয়পক্ষ সম্মত হন, স্বেচ্ছাসেবী, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

বৈঠকের আগে অধ্যাপক ইউনূসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি মুখ্য সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠক শেষে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরুকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৬:০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু শুক্রবার টোকিওতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ উত্তরণ, সংস্কারমূলক প্রচেষ্টা এবং জাতি গঠনে তার দেশের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় নেতা শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ একটি মুক্ত এবং উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (FOIP) অঞ্চল গঠনের লক্ষ্যে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ভাগাভাগি করেন। তারা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার ভিত্তিতে বহুপাক্ষিকতা, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় উঠে আসে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানা দিক। মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন (MIDI) এবং বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প বৃদ্ধির বেল্ট (BIG-B) প্রকল্পের আওতায় জাপানের অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস। জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ এবং উন্নয়ন নীতি ঋণ বিনিময়ের বিষয়েও উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (OSS), প্রিপেইড গ্যাস মিটার, ব্যাটারিচালিত সাইকেল কারখানা, তথ্য নিরাপত্তা পাইলট প্রকল্প এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (BSEZ) ভূমি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়েও সম্মতি প্রকাশ করা হয়।

নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে, জাপান সরকারের অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (OSA) প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য পাঁচটি টহল নৌকা সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে দ্রুত চুক্তি সম্পাদনের প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়।

মানবসম্পদ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করতেও উভয়পক্ষ একমত হন। জাপানের মানবসম্পদ উন্নয়ন বৃত্তি এবং অন্যান্য সহায়তার জন্য অধ্যাপক ইউনূস জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত জনগণকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অধ্যাপক ইউনূস ভাসান চরসহ অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রে জাপানের মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। উভয়পক্ষ সম্মত হন, স্বেচ্ছাসেবী, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

বৈঠকের আগে অধ্যাপক ইউনূসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি মুখ্য সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠক শেষে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরুকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।