বাংলাদেশ ১০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

চাকরি মানুষের সৃজনশীলতাকে দমন করে: টোকিওতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

  • আপডেট সময় : ১২:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
  • / 47

অনলাইন ডেস্ক:

তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল হয়ে একটি নতুন বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “চাকরি মানুষের সৃজনশীলতাকে দমন করে”। শুক্রবার (৩০ মে) জাপানের টোকিও শহরে অবস্থিত সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ও সভ্যতার কাঠামোর মধ্যে মানুষ আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না, কারণ পরিবেশ ধ্বংসের হার বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি তার ‘থ্রি জিরো থিওরি’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—এর ধারণার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, “বিশ্বের সম্পদের সিংহভাগ এখন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন মানুষের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, যা একটি ভয়াবহ বৈষম্যের অভিশাপ।” তিনি সতর্ক করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উদ্ভব বেকারত্বের সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলতে পারে।

ড. ইউনূস তার গঠিত ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ সম্পর্কে বলেন, পাঁচজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে এমন একটি ক্লাব গঠন করতে পারে, যেখানে সদস্যরা জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জনের প্রতিজ্ঞা করে সমাজে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করবে।

তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “যদি তোমার মধ্যে সৃজনশীলতা না থাকে, তবে তুমি কিছুই নও। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই সৃজনশীলতা আছে, আর সেটি জাগিয়ে তুলতেই হবে।” চাকরি মানুষের সহজাত সৃজনশীলতাকে দমন করে—এই কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সামাজিক ব্যবসায়ের ক্লাব গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “একটি নতুন পৃথিবী কল্পনা করো, কারণ কল্পনা তোমাকে নিজেকে উন্মুক্ত করার শক্তি দেয়।” তিনি তুলে ধরেন কীভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক থাকা অবস্থায় পাশের একটি ছোট গ্রামে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করেন, যা পরে বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ব্যাংক মডেলের ভিত্তি হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাকরি মানুষের সৃজনশীলতাকে দমন করে: টোকিওতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আপডেট সময় : ১২:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল হয়ে একটি নতুন বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “চাকরি মানুষের সৃজনশীলতাকে দমন করে”। শুক্রবার (৩০ মে) জাপানের টোকিও শহরে অবস্থিত সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ও সভ্যতার কাঠামোর মধ্যে মানুষ আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না, কারণ পরিবেশ ধ্বংসের হার বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি তার ‘থ্রি জিরো থিওরি’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—এর ধারণার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, “বিশ্বের সম্পদের সিংহভাগ এখন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন মানুষের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, যা একটি ভয়াবহ বৈষম্যের অভিশাপ।” তিনি সতর্ক করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উদ্ভব বেকারত্বের সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলতে পারে।

ড. ইউনূস তার গঠিত ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ সম্পর্কে বলেন, পাঁচজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে এমন একটি ক্লাব গঠন করতে পারে, যেখানে সদস্যরা জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জনের প্রতিজ্ঞা করে সমাজে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করবে।

তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “যদি তোমার মধ্যে সৃজনশীলতা না থাকে, তবে তুমি কিছুই নও। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই সৃজনশীলতা আছে, আর সেটি জাগিয়ে তুলতেই হবে।” চাকরি মানুষের সহজাত সৃজনশীলতাকে দমন করে—এই কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সামাজিক ব্যবসায়ের ক্লাব গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “একটি নতুন পৃথিবী কল্পনা করো, কারণ কল্পনা তোমাকে নিজেকে উন্মুক্ত করার শক্তি দেয়।” তিনি তুলে ধরেন কীভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক থাকা অবস্থায় পাশের একটি ছোট গ্রামে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করেন, যা পরে বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ব্যাংক মডেলের ভিত্তি হয়।