চাকরি মানুষের সৃজনশীলতাকে দমন করে: টোকিওতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস
- আপডেট সময় : ১২:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
- / 47
অনলাইন ডেস্ক:
তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল হয়ে একটি নতুন বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “চাকরি মানুষের সৃজনশীলতাকে দমন করে”। শুক্রবার (৩০ মে) জাপানের টোকিও শহরে অবস্থিত সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ও সভ্যতার কাঠামোর মধ্যে মানুষ আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না, কারণ পরিবেশ ধ্বংসের হার বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি তার ‘থ্রি জিরো থিওরি’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—এর ধারণার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, “বিশ্বের সম্পদের সিংহভাগ এখন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন মানুষের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, যা একটি ভয়াবহ বৈষম্যের অভিশাপ।” তিনি সতর্ক করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উদ্ভব বেকারত্বের সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলতে পারে।
ড. ইউনূস তার গঠিত ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ সম্পর্কে বলেন, পাঁচজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে এমন একটি ক্লাব গঠন করতে পারে, যেখানে সদস্যরা জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জনের প্রতিজ্ঞা করে সমাজে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করবে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “যদি তোমার মধ্যে সৃজনশীলতা না থাকে, তবে তুমি কিছুই নও। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই সৃজনশীলতা আছে, আর সেটি জাগিয়ে তুলতেই হবে।” চাকরি মানুষের সহজাত সৃজনশীলতাকে দমন করে—এই কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সামাজিক ব্যবসায়ের ক্লাব গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “একটি নতুন পৃথিবী কল্পনা করো, কারণ কল্পনা তোমাকে নিজেকে উন্মুক্ত করার শক্তি দেয়।” তিনি তুলে ধরেন কীভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক থাকা অবস্থায় পাশের একটি ছোট গ্রামে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করেন, যা পরে বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ব্যাংক মডেলের ভিত্তি হয়।














