বাংলাদেশ ১০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

আ.লীগকে নিষিদ্ধ করার পর আরেকটা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে

  • আপডেট সময় : ০৪:২৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
  • / 48

অনলাইন ডেস্ক:

দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশে এক ধরনের ‘নতুন যুদ্ধাবস্থা’ তৈরি হয়েছে। রোববার (২৫ মে) রাজধানীতে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

প্রেস সচিবের ভাষ্যমতে, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “আমরা এখন এক গভীর যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশকে অস্থিতিশীল করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমাদের এই ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তারা কোনোভাবেই এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছে না। জাতিকে বিভাজনের পথ থেকে বের করে আনতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একটি জাতি হিসেবে আমরা যে অবস্থানে পৌঁছেছি, তা যেন আরও এগিয়ে যেতে পারে।”

বৈঠকে উপস্থিত সবার মধ্যে ঐকমত্য দেখে ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এই অভ্যুত্থানের পর আমি দেশের দায়িত্ব পেয়েছি। এখন যদি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে না পারি, তাহলে আমি নিজেকে অপরাধী মনে করব।”

প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, নির্বাচন অবশ্যই ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এই সময়সীমার পর তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না। তিনি বলেন, “আমি ৩০ জুনের পর একদিনও এই দায়িত্বে থাকব না। আমি দেশকে কল্যাণের পথে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি, এটিকে ব্যর্থ হতে দেব না।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “দেশি-বিদেশি কিছু মহল ষড়যন্ত্র করছে, যেন দেশ আবার পরাধীনতার দিকে ফিরে যায়। কিন্তু আমি যতদিন দায়িত্বে থাকব, নিশ্চিত থাকতে পারেন—দেশের কোনো ক্ষতি এমনকি আমার হাত দিয়ে কোনো ভুল কাজ হবে না।”

সরকারের তিনটি মূল লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। যখন পূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন হবে, তখনই আমরা জনগণের আস্থা অর্জন করব এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আ.লীগকে নিষিদ্ধ করার পর আরেকটা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে

আপডেট সময় : ০৪:২৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:

দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশে এক ধরনের ‘নতুন যুদ্ধাবস্থা’ তৈরি হয়েছে। রোববার (২৫ মে) রাজধানীতে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

প্রেস সচিবের ভাষ্যমতে, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “আমরা এখন এক গভীর যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশকে অস্থিতিশীল করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমাদের এই ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তারা কোনোভাবেই এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছে না। জাতিকে বিভাজনের পথ থেকে বের করে আনতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একটি জাতি হিসেবে আমরা যে অবস্থানে পৌঁছেছি, তা যেন আরও এগিয়ে যেতে পারে।”

বৈঠকে উপস্থিত সবার মধ্যে ঐকমত্য দেখে ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এই অভ্যুত্থানের পর আমি দেশের দায়িত্ব পেয়েছি। এখন যদি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে না পারি, তাহলে আমি নিজেকে অপরাধী মনে করব।”

প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, নির্বাচন অবশ্যই ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এই সময়সীমার পর তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না। তিনি বলেন, “আমি ৩০ জুনের পর একদিনও এই দায়িত্বে থাকব না। আমি দেশকে কল্যাণের পথে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি, এটিকে ব্যর্থ হতে দেব না।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “দেশি-বিদেশি কিছু মহল ষড়যন্ত্র করছে, যেন দেশ আবার পরাধীনতার দিকে ফিরে যায়। কিন্তু আমি যতদিন দায়িত্বে থাকব, নিশ্চিত থাকতে পারেন—দেশের কোনো ক্ষতি এমনকি আমার হাত দিয়ে কোনো ভুল কাজ হবে না।”

সরকারের তিনটি মূল লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। যখন পূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন হবে, তখনই আমরা জনগণের আস্থা অর্জন করব এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।”