বাংলাদেশ ১২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসলামপুরে এ এস এম আব্দুল হালিমের সমর্থনে মহিলাদলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার সিইসির ভারতে পালিয়ে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলেন আ.লীগ নেতা হানিফ যশোরের শার্শায় জামায়াত ছাড়লেন ৯ কর্মী, বিএনপিতে যোগদান শেরপুর ও সাতক্ষীরায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান হলুদ সাংবাদিকতার পতন আমার হাত ধরেই হবে: ডাকসু প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা সৌদিতে তিন সন্তানকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা করলেন ভারতীয় মা চবি শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া বহিষ্কার রাজাকারি কোনো স্লোগান এই দেশে শুনতে চাই না: ফজলুর রহমান

আমাদের কি আসিফ নজরুলের পদত্যাগ চাওয়া উচিত নয়?: প্রশ্ন সারজিস আলমের

Md Faridul Islam
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
  • / 63

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আদালতের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে মুখ খুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও জুলাই আন্দোলনের নেতা সারজিস আলম। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এই অবস্থায় আমাদের কি আসিফ নজরুল স্যারের পদত্যাগ চাওয়া উচিত নয়?”

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম এ প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সুপারিশ ও টাকার প্রভাবে আওয়ামী লীগের বহু দাগী আসামি জামিন পেলেও, আওয়ামী আমলের নিপীড়নের শিকার নিরপরাধ মানুষরা এখনও জামিনের মুখ দেখেন না।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, “টাকা আর রাজনৈতিক দলের সুপারিশে অনেক হত্যাকারী আওয়ামী লীগারের জামিন হয়ে যায়। অথচ আওয়ামী সরকারের সময় যে সমস্ত মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের জামিন হয় না। কেন?”

হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে হেফাজতের ওপর চাপানো মিথ্যা মামলায় অনেক মজলুম আলেম আজও আদালতে চক্কর কাটছেন, কেউ কেউ এখনো কারাগারে।”

সারজিস আলম দাবি করেন, সম্প্রতি বিএনপি ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তিও জামিন পেয়েছেন, যারা তাদের নিজ দলের আমলে করা অপরাধের দায়ে জেলে গিয়েছিলেন। “তাহলে প্রশ্ন আসে-কারা এসব জামিনের সুপারিশ করেন? কোন আইনজীবী বা বিচারক এই প্রক্রিয়ায় সহায়ক হন?” এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এই বিচার ব্যবস্থার ভেতরে থেকেও যিনি আইন উপদেষ্টা হিসেবে আছেন, সেই ড. আসিফ নজরুল কি এসব দায় এড়িয়ে যেতে পারেন?”

জুলাই আন্দোলনের ঘটনাগুলোর বিচার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে এতগুলো মানুষ নিহত হল, রক্ত ঝরল, কিন্তু নয় মাসেও একটি খুনের বিচার শেষ হলো না! এটা কি ন্যায়বিচার?”

সবশেষে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “এই অবস্থায় আসিফ নজরুল স্যারের পদত্যাগ দাবি করা কি অনুচিত হবে?”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত, উপদেষ্টাদের ভূমিকা এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নানা মহল থেকে উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আমাদের কি আসিফ নজরুলের পদত্যাগ চাওয়া উচিত নয়?: প্রশ্ন সারজিস আলমের

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আদালতের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে মুখ খুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও জুলাই আন্দোলনের নেতা সারজিস আলম। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এই অবস্থায় আমাদের কি আসিফ নজরুল স্যারের পদত্যাগ চাওয়া উচিত নয়?”

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম এ প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সুপারিশ ও টাকার প্রভাবে আওয়ামী লীগের বহু দাগী আসামি জামিন পেলেও, আওয়ামী আমলের নিপীড়নের শিকার নিরপরাধ মানুষরা এখনও জামিনের মুখ দেখেন না।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, “টাকা আর রাজনৈতিক দলের সুপারিশে অনেক হত্যাকারী আওয়ামী লীগারের জামিন হয়ে যায়। অথচ আওয়ামী সরকারের সময় যে সমস্ত মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের জামিন হয় না। কেন?”

হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে হেফাজতের ওপর চাপানো মিথ্যা মামলায় অনেক মজলুম আলেম আজও আদালতে চক্কর কাটছেন, কেউ কেউ এখনো কারাগারে।”

সারজিস আলম দাবি করেন, সম্প্রতি বিএনপি ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তিও জামিন পেয়েছেন, যারা তাদের নিজ দলের আমলে করা অপরাধের দায়ে জেলে গিয়েছিলেন। “তাহলে প্রশ্ন আসে-কারা এসব জামিনের সুপারিশ করেন? কোন আইনজীবী বা বিচারক এই প্রক্রিয়ায় সহায়ক হন?” এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এই বিচার ব্যবস্থার ভেতরে থেকেও যিনি আইন উপদেষ্টা হিসেবে আছেন, সেই ড. আসিফ নজরুল কি এসব দায় এড়িয়ে যেতে পারেন?”

জুলাই আন্দোলনের ঘটনাগুলোর বিচার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে এতগুলো মানুষ নিহত হল, রক্ত ঝরল, কিন্তু নয় মাসেও একটি খুনের বিচার শেষ হলো না! এটা কি ন্যায়বিচার?”

সবশেষে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “এই অবস্থায় আসিফ নজরুল স্যারের পদত্যাগ দাবি করা কি অনুচিত হবে?”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত, উপদেষ্টাদের ভূমিকা এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নানা মহল থেকে উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।